ঢাকা   মঙ্গলবার ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

নারীর ক্ষমতায়নে নতুন উদ্যোগ

নারীপ্রধান পরিবারে ভাতা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নারীপ্রধান পরিবারে ভাতা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ল্যাপটপের বাটন চাপিয়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই লক্ষ্য থেকেই নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। তাই আজ শুধু আমার জন্য নয়, আমাদের সরকার ও দলের জন্যও এটি একটি ঐতিহাসিক ও আবেগঘন দিন।”

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি স্থানে এই কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব এলাকায় এটি সম্প্রসারণ করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে কয়েকজন নারীপ্রধান পরিবারের হাতে প্রতীকীভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তাদেরই একজন রাশেদা, যিনি জানান, কার্ড পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা পৌঁছে গেছে। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী জুবাইদা রহমান।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী পরিবারগুলো প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। ভাতার টাকা উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট অথবা ব্যাংক হিসাবে সরাসরি পাঠানো হবে। ফলে ঘরে বসেই ভাতা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

প্রাথমিকভাবে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী—

  • নারী পরিবারপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা পান, তবে সেই ভাতা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।

  • তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের চলমান ভাতা নিতে পারবেন।

  • পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলে বা পেনশন পেলে ওই পরিবার ভাতা পাবে না।

  • এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হলেও যোগ্যতা থাকবে না।

  • পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বড় ব্যবসা, গাড়ি, এসি কিংবা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও এই ভাতা পাওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি আজ বাস্তব রূপ পেয়েছে। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে এই কার্ডকে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি সর্বজনীন ‘সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড আজ আর স্বপ্ন নয়। এটি এখন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে—একটি ভরসা ও আস্থার নাম হয়ে।”

সরকারের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে এবং নারীর ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী হবে।