ঢাকা   রোববার ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

আইসিবির পাশে সরকার, বাড়ল গ্যারান্টি

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩৬, ৮ জুলাই ২০২৬

আইসিবির পাশে সরকার, বাড়ল গ্যারান্টি

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণের বিপরীতে সরকারের দেওয়া রাষ্ট্রীয় (সার্বভৌম) গ্যারান্টির মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। বাজার-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত আইসিবির তারল্য সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে ইতিবাচক বার্তা দেবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের প্রচ্ছন্ন দায় ও আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে গত ৬ জুলাই এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির বর্ধিত মেয়াদ ২০২৬ সালের ১৩ মে থেকে কার্যকর হয়ে ২০২৯ সালের ১১ মে পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এর ফলে আইসিবি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ঋণ পরিশোধ এবং বাজারে বিনিয়োগ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুযোগ পাবে।

তবে গ্যারান্টির মেয়াদ বাড়ানোর সঙ্গে আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও দিয়েছে অর্থ বিভাগ। এর মধ্যে রয়েছে—২০২৯ সালের ১১ মে'র মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ৩ হাজার কোটি টাকার মূল ঋণ পরিশোধ, বিদ্যমান ঋণচুক্তির শর্ত অপরিবর্তিত রাখা এবং আইসিবির আর্থিক পুনরুদ্ধারে সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।

এছাড়া প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা, সুদ ব্যয়ের চাপ কমানো এবং বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর মূলধন ক্ষয় কাটিয়ে উঠতে একটি বাস্তবভিত্তিক ও সময়সীমাবদ্ধ বিজনেস রিকভারি প্ল্যান প্রণয়ন করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা দিতে হবে। পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে সরকার।

অর্থ বিভাগের মতে, রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির মেয়াদ বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হলো আইসিবির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিনিয়োগ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা। এজন্য আইসিবির শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়, পোর্টফোলিও পুনর্গঠন, তারল্য পরিস্থিতি ও ঋণ পরিশোধের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। প্রতি তিন মাস অন্তর অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে হালনাগাদ অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে ঋণ পরিশোধের হালনাগাদ সময়সূচিও দাখিল করতে হবে।

উল্লেখ্য, তারল্য সংকট এবং উচ্চ সুদের ঋণের চাপ কমিয়ে পুঁজিবাজারে কার্যকর বিনিয়োগ সক্ষমতা ধরে রাখতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সুবিধা চেয়েছিল আইসিবি। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ২৭ নভেম্বর ১০ শতাংশ সুদে ঋণ অনুমোদন করা হলেও পরে আইসিবির আবেদনের ভিত্তিতে ৩ ডিসেম্বর সুদহার কমিয়ে ব্যাংক রেট, অর্থাৎ ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর ঋণের অর্থ আইসিবির হিসাবে জমা হয়।

বিশেষ এ তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য আইসিবির চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট তহবিলের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ২ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১ হাজার কোটি টাকা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মৌলভিত্তিসম্পন্ন ‘এ’ ক্যাটাগরির সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা বাজারে তারল্য ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।