দেশের জনপ্রিয় ও খ্যাতিমান তবলা বাদক বিকাশ কুমার চৌধুরী বর্তমানে সমানতালে কাজ করে চলেছেন টেলিভিশন, স্টেজ শো ও সংগীত শিক্ষকতায়। সংগীতাঙ্গনে নিজের মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই গড়ে তুলেছেন আলাদা পরিচিতি।
যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার সোনাকুড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিকাশ কুমার চৌধুরী। সংগীতের হাতেখড়ি তার পরিবার থেকেই। তার বাবা ছিলেন একজন দক্ষ শ্রীখোল বাদক। বিভিন্ন কীর্তন অনুষ্ঠানে শ্রীখোল বাজিয়ে তিনি এলাকায় বেশ সুনাম অর্জন করেছিলেন।
ছোটবেলাতেই বাবার কাছ থেকে সংগীতে প্রাথমিক তালিম নেন বিকাশ। পাশাপাশি কিছুদিন শ্রীখোল শিক্ষাও গ্রহণ করেন। তবে পরবর্তীতে তবলার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হওয়ায় তিনি মনোনিবেশ করেন তবলা শিক্ষায়।
২০০১ সালে বাঁকড়ায় অবস্থিত বাঁধন সংগীত একাডেমিতে শিক্ষক বাবু বিজন দেবনাথের কাছে তবলার তালিম গ্রহণ শুরু করেন। এরপর ২০০২ সালে ধ্রুব পরিষদ বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত তবলা পরীক্ষার প্রথম বর্ষে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন।
উচ্চশিক্ষার জন্য পরবর্তীতে তিনি যশোরের সুরধ্বনি সংগীত নিকেতনে ভর্তি হন। দীর্ঘ সাধনার ফলস্বরূপ ২০১২ সালে তবলা নবম বর্ষ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
সংগীত জীবনে দেশের বহু গুণী শিল্পীর সঙ্গে তবলা বাজিয়েছেন বিকাশ কুমার চৌধুরী। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আব্দুল জব্বার, অসিত রায়, মিতা হক, সালাউদ্দিন আহমেদ, ইয়াকুব আলী খান, ফাতেমা তুজ জোহরা ও চন্দনা মজুমদারসহ আরও অনেকে।
ব্যক্তিজীবনে তিনি বিভিন্ন সংগীত একাডেমিতে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। বর্তমানে ধ্রুব পরিষদ বাংলাদেশের সিনিয়র পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি সংশপ্ত শিল্পী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন।
নিজের সংগীতজীবনের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে বিকাশ কুমার চৌধুরী বলেন, “আমার শুরুটা অনেক কষ্টের ছিল। তবলা শিখতে গিয়ে আমাকে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হয়েছে। তবুও আমি কখনও হাল ছাড়িনি। আজ সবার ভালোবাসা পাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আমার গুরু স্বপন ঘোষ (ভারত)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। তার সান্নিধ্য পেয়েই আজ আমি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি। যতদিন বেঁচে আছি, সংগীতের সাথেই থাকতে চাই।”
























