JAC EnergyPac Power
Crystal Life Insurance
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

চাঁদপুরে ধরা যাচ্ছে না ইলিশ


০২ অক্টোবর ২০২০ শুক্রবার, ১১:৩৫  পিএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


চাঁদপুরে ধরা যাচ্ছে না ইলিশ

লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদীতে নির্বিচারে অবৈধ কারেন্ট জাল, নানা প্রকারের ক্ষতিকর জাল ফেলা, বুড়িগঙ্গা নদী দুষণ, নাব্যতা সংকট আর চাঁদপুরের নদী এলাকায় জলদস্যুদের দৌরাত্ম্যের কারণে ইলিশ পাচ্ছেন না চাঁদপুরের জেলেরা। এতে করে এবার এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখেনি জেলার অধিকাংশ মৎস্যজীবী। যদিও শেষ কয়েক মাসের তুলনায় গত দুই সপ্তাহ কিছু ইলিশ পাচ্ছেন এখানকার জেলেরা।

জেলেরা জানান, মার্চ-এপ্রিলে প্রজনন শেষে মাছ সাগরে চলে যায়। পরবর্তীতে আবার ডিম ছাড়ার জন্য এ অঞ্চলে আসে। কিন্তু সাগর থেকে নদীতে আসতেই উপকূলীয় এলাকা তথা নদী মোহনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের এলাকাগুলোতেই বৈধ-অবৈধ বিপুল পরিমাণ জালে বেশিরভাগ মাছ ধরা পড়ে। যে কারণে, বাজারে উপকূলীয় এলাকার মাছই বেশি।

চাঁদপুর মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মানিক দেওয়ান বলেন, চাঁদপুরে অর্ধ লক্ষাধিক জেলে রয়েছে। তারা এখনও কাঙ্খিত ইলিশ পাচ্ছেন না। কারণ দক্ষিণাঞ্চলে নির্বিচারে প্রচুর জাল ফেলার কারণে মাছ এখানে আসতে পারছে না।

তিনি বলেন, চাঁদপুরের শেষ প্রান্ত থেকে দক্ষিণাঞ্চলের যেখান দিয়ে ইলিশ মাছ উঠে তার সবখানেই কারেন্ট জাল ফেলা হচ্ছে। সেখানকার জেলেরা অনেক ধরনের জাল ফেলে। বিশেষ করে অবৈধ কারেন্ট জাল ২০-৫০ হাত দূরে দূরেই ফেলা হচ্ছে। কারেন্ট জাল এতো বেশি ফেলা হচ্ছে যে বড়-ছোট সব ধরনের মাছই সেখানে আটকা পড়ছে। ফলে চাঁদপুরের নদী অঞ্চলে ইলিশ আসতে পারছে না।

তিনি বলেন, চাঁদপুরের হাইমচরের নদী অঞ্চলে রাতে জাল ফেলা যায় কঠিন। জেলার সীমান্তবর্তী এ উপজেলার নৌ সীমায় জলদস্যু ও ডাকাতদের ভয়ে রাতে নদীতে যাওয়া যায় না। রাতে জেলেরা মাছ শিকার করে ফেরার পথে মাছ, নৌকার ইঞ্জিনসহ সঙ্গে থাকা সব কিছু লুটে নিচ্ছে চক্রটি।

হাইমচরের মৎস্যজীবী জহির প্রধান ও জেলে রফিক পাটওয়ারী বলেন, আমাদের গুল্ডি জালের নৌকা। নদীতে জাল ফেললে এসব নৌকায় ১২-১৫ জন লোক লাগে। এদের খাওয়া খরচ, নৌকার জ্বালানি’সহ দিনে প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। এ অবস্থায় আমরা যদি ১০ হাজার টাকার মাছও পাই তাহলেও লাভের মুখ দেখবো না। আবার ২-৩ জন জেলে কারেন্ট জাল আর ছোট নৌকা নিয়ে নদীতে গিয়ে ৩-৪ হাজার টাকার মাছ পেলেও তারা চলতে পারবে। তাদের খরচ কম। যাদের গুল্ডি জাল তারা অধিকাংশই লোকসানের মধ্যে আছে। তারা বলেন, আশা করি সামনের দিনগুলোতে বেশি মাছ পাবো।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (নদী কেন্দ্র)-এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার) ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, কারেন্ট জাল সর্বত্রই নিষিদ্ধ। এটি মাছের জন্য ক্ষতিকর। কারেন্ট জাল একেবারে সমূলে নির্মুল করা উচিত। তিনি বলেন, আলেকজান্ডার-রামগতি, বরিশালের হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ’সহ কয়েকটি চ্যানেল দিয়েই এ অঞ্চলে ইলিশ আসে। ওইসব এলাকায় বাধা কম থাকলে উপরের দিকে মাছ আসার সুযোগ পাবে। প্রতি মুহূর্তেই যদি মাছ জালের মুখোমুখি হয় তাহলে মাছগুলো সেখানেই আটকা পড়বে।

 

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (নদীকেন্দ্র) চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ড. আনিছুর রহমান বলেন, এটা ঠিক, নদী মোহনায় ব্যাপক জাল ফেলা হচ্ছে। ওই এলাকায় প্রচুর বেহুন্দি জাল, কারেন্ট জাল, বান্ধ জাল তথা নানা জাতের ক্ষতিকর জাল ফেলা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নদী দুষণ, তীব্র নাব্যতা সংকটসহ নানা কারণেই চাঁদপুর নদী অঞ্চলে মাছ আসতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। তারপরও এখন তারা মোটামুটি মাছ পাচ্ছে।

করোনার কারণে এবার মার্চ-এপ্রিলে জাটকা রক্ষা কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় এর কোনও প্রভাব ইলিশ উৎপাদনে পড়বে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বড় ধরনের কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ, প্রচুর পরিমাণ ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেয়েছে। তার কিছু অংশ জাটকা ধরা পড়লেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এছাড়া করোনার কারণে নদীপথে এবার যান চলাচল বন্ধ ছিল, নদী দূষণ কম হয়েছে- এসব কারণে মাছগুলো এবার ভালো খাদ্য পেয়েছে। এতে করে মাছও সুস্বাদু হবে। তিনি বলেন, এবার আমরা আশা করি, সাড়ে ৫ লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ করা যাবে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, কোথায় কতটি জাল ফেলতে পারবে এ ধরনের কোনও নীতিমালা নেই। যাদের জেলে কার্ড আছে, তারা নদীতে নামবে। যাদের জাল আছে তারা জাল ফেলবেই। আমরা তাদেরকে নিষেধ করতে পারবো না।

তিনি বলেন, জেলে কার্ড ছাড়াও বহু জেলে আছেন। অবৈধভাবে মাছ ধরার জন্য আরও বেশি বেশি নৌকা এবং ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের প্রস্তাবনা হলো, প্রত্যেক নৌকায় একটি করে সিমকার্ড সরকারিভাবে দেওয়া হবে। আমরা জিপিএস-এর মাধ্যমে দেখবো কোন নৌকা কোথায় আছে। এতে করে কোন নৌকা ডাকাতি করে, কোন নৌকা অবৈধভাবে মাছ শিকার করে সব কিছু বোঝা করা যাবে। এটি হলে সহজেই জানা যাবে, নদীর কোথায় দুইশ, কোথায় পাঁচশ আর কোথায় হাজার নৌকা মাছ ধরছে। তখন সরকারের কাছে সুপারিশ করতে পারবো, যে ওই অঞ্চলে এতো হাজার নৌকা মাছ ধরছে।

 

তিনি বলেন, আশা করি আমরা ওই পথে এগিয়ে যাবো। নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল সব জায়গাতেই কম বেশি ব্যবহার হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আর আগামী ৫ অক্টোবর আমাদের একটি মিটিং আছে। সেখানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ সবাই থাকবেন। ওই মিটিংয়ে জেলে প্রতিনিধিরা জলদস্যু এবং নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: