ঢাকা   মঙ্গলবার ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

সূচকে শক্তিশালী উত্থান, লেনদেন কমলেও বাজারে ফিরছে আস্থার বার্তা

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:১৪, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

সূচকে শক্তিশালী উত্থান, লেনদেন কমলেও বাজারে ফিরছে আস্থার বার্তা

টানা দুই কার্যদিবসের দরপতনের পর মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশের শেয়ারবাজারে আবারও ইতিবাচক ধারা ফিরে এসেছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের শক্তিশালী উত্থান হয়েছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও টাকার অঙ্কে লেনদেন কিছুটা কমেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক উত্থানের পর একাংশ বিনিয়োগকারীর মুনাফা উত্তোলনের কারণে আগের দুই কার্যদিবসে সূচকে সংশোধন দেখা যায়। তবে সেই চাপ কাটিয়ে বাজারের পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন। তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার ধরে রাখার প্রবণতা বেড়েছে, ফলে বিক্রির চাপ কম থাকায় বাজারে ইতিবাচক গতি বজায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। ফলে বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক ধাক্কার আশঙ্কা কমে এসেছে। বরং সামনের দিনগুলোতে বাজার আরও স্থিতিশীল ও ইতিবাচক ধারায় এগোতে পারে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫১ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০৫ দশমিক ২৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১০ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১৩৯ দশমিক ৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ বেড়েছে ১০ দশমিক ১৬ পয়েন্ট, যা দিন শেষে ২ হাজার ১২৭ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে অবস্থান করে।

দিনভর লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৭৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, ৫৫টির কমেছে এবং ৬১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ বাজারজুড়ে ক্রেতাদের আধিপত্য স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

তবে লেনদেনের পরিমাণে কিছুটা ভাটা পড়েছে। মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ৮২৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল ৮৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকা। ফলে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৪৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ছিল ইতিবাচক চিত্র। এদিন সিএসইতে মোট ৯৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৭৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৭টির দর বেড়েছে, ৭৩টির কমেছে এবং ৩১টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

এদিন সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৫৩ দশমিক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৭১ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। উল্লেখ্য, আগের কার্যদিবসে সূচকটি ১৭৭ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট হারিয়েছিল। ফলে মঙ্গলবারের উত্থানকে বাজারের ইতিবাচক প্রত্যাবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সূচকের শক্তিশালী উত্থান, অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখার মনোভাব—সব মিলিয়ে শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। যদিও লেনদেন কিছুটা কমেছে, তবুও বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা এখনো ইতিবাচক বলেই মনে করছেন তারা।

সর্বশেষ