শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) নীতিমালায় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)। সংগঠনটির মতে, কোনো পরিচালক, উদ্যোক্তা বা মনোনয়নকারী প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি অবস্থার কারণে আর্থিকভাবে সুস্থ ও লাভজনক কোম্পানিগুলোকে ঋণসুবিধা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিএপিএলসির সভাপতি রিয়াদ মাহমুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এ দাবি উত্থাপন করে।
বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং প্রবৃদ্ধির পথে বিদ্যমান বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সিআইবি প্রতিবেদনের কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সামনে তৈরি হওয়া জটিল বিষয়গুলো গভর্নরের কাছে তুলে ধরা হয়।
বিএপিএলসির নেতারা জানান, বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো মূল কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা মনোনয়নকারী প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে সেই প্রতিষ্ঠানের মনোনীত পরিচালক যে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন, সেই কোম্পানিটিও নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়ে। ফলে কোম্পানিটি আর্থিকভাবে সুস্থ, লাভজনক এবং বিধিবিধান মেনে পরিচালিত হলেও ঋণ গ্রহণ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধার সম্মুখীন হয়।
তাদের মতে, এই ধরনের ‘প্রক্সি ডিফল্ট’ বা পরোক্ষ ঋণখেলাপি ধারণা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অযৌক্তিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। কোনো কোম্পানির ঋণযোগ্যতা মূল্যায়নের সময় শুধুমাত্র ওই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা, নগদ প্রবাহ, পরিচালন দক্ষতা ও ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, বর্তমানে কোনো গ্রুপের একজন উদ্যোক্তা, পরিচালক বা জামিনদারের সিআইবি প্রতিবেদন নেতিবাচক হলে একই গ্রুপের অন্যান্য কোম্পানির ঋণসুবিধাও কার্যত সীমিত হয়ে যায়। এতে নিয়মিত পরিচালিত এবং আর্থিকভাবে সক্ষম অনেক প্রতিষ্ঠানও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
এ কারণে সিআইবি মূল্যায়নে ‘একই নিয়ম সবার জন্য’ নীতি থেকে বেরিয়ে এসে কোম্পানিভিত্তিক, বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়। বিএপিএলসির মতে, কোনো ব্যক্তি বা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সমস্যার দায় অন্য একটি সুস্থ প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সিআইবি নীতিমালার সংস্কারের পাশাপাশি প্রতিনিধি দল সরকারের ঘোষিত ‘ফ্যাক্টরি রিভাইভাল ফান্ড’-এর আওতা সম্প্রসারণের দাবিও জানায়। বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর জন্য এ তহবিল ব্যবহৃত হলেও আর্থিক সংকটে থাকা পুনর্গঠিত ও চালু শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও এর সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বিএপিএলসির মতে, দেশের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে তীব্র কার্যকরী মূলধন সংকটে ভুগছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে, কর্মসংস্থান রক্ষা পাবে এবং সম্ভাবনাময় শিল্পকারখানাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবে।
বৈঠকে সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের চাপ কমাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য শেয়ারবাজারকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। ইকুইটি ও বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন বাড়ানো গেলে শেয়ারবাজারের গভীরতা বৃদ্ধি পাবে এবং একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতাও কমবে।
তাদের মতে, অর্থায়নের উৎস বহুমুখীকরণ করা গেলে করপোরেট খাত আরও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে এবং দেশের সামগ্রিক আর্থিক খাত হবে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল।























