ঢাকা   মঙ্গলবার ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

অনিয়ম ও পরিচালনায় প্রশ্ন, বাড়ছে নজরদারি

চার ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

শেয়ারবাজার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৪৫, ৯ মার্চ ২০২৬

চার ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশের বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড, আইএফআইসি ব্যাংক এবং আল–আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠায় এসব ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসানো হয়েছে। বিশেষ করে কিছু স্বতন্ত্র পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে আরও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ পাওয়া পর্যবেক্ষকেরা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি ও নিরীক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত থাকবেন এবং সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন। তারা ব্যাংকের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রম সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করবেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ন্যাশনাল ব্যাংকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যাংক সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট–১২ বিভাগের পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরী। আল–আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক হয়েছেন ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। প্রিমিয়ার ব্যাংকে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক এ এন এম মঈনুল কবির এবং আইএফআইসি ব্যাংকে ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট–১–এর পরিচালক এ কে এম কামরুজ্জামানকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বতন্ত্র ও শেয়ারধারী পরিচালক নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকগুলো পরিচালনার উদ্যোগ নেয়। তবে তাতেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময় ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনা করত সিকদার গ্রুপ, প্রিমিয়ার ব্যাংক পরিচালনা করত প্রিমিয়ার গ্রুপ, আইএফআইসি ব্যাংক পরিচালনায় প্রভাব ছিল ব্যবসায়ী মহলের এবং আল–আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনায় ছিল এস আলম গ্রুপ–এর সংশ্লিষ্টতা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ব্যাংকগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং অনিয়ম কমাতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।