মার্কিন তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে কিভাবে শুল্ক ছাড় পাওয়া যাবে—এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা চেয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। সংগঠনটি মনে করে, বিষয়টি পরিষ্কার হলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদার হবে।
রবিবার ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশের নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দের এক বৈঠকে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, মার্কিন তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাকে শুল্ক সুবিধা দেওয়া হলে তা দুই দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, বিষয়টি বর্তমানে ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ইউএসটিআর) দপ্তরে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বাণিজ্য উদ্যোগটি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক এবং বাংলাদেশই প্রথম দেশ হিসেবে এ ধরনের সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে তুলা রপ্তানি আরো বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ-এর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন শুল্ক পরিবর্তনের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়টি রাষ্ট্রদূতের নজরে আনেন।
জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়ের প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিগগিরই এ জটিলতার সমাধান হবে এবং শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পখাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, স্বল্পমেয়াদে এলএনজি অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ যদি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করতে পারে, তবে মার্কিন বিনিয়োগকারীরা এ খাতে এগিয়ে আসতে আগ্রহী হবে।
বৈঠকে শ্রম আইন ও প্রস্তাবিত নতুন শ্রম অধ্যাদেশ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রম খাতের সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, প্রস্তাবিত শ্রম অধ্যাদেশে ১৪৫টি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে এবং কিছু বিষয়ে আরো স্পষ্টতা প্রয়োজন।
এ ছাড়া পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ভিসা বন্ড শিথিল করা এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবও বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএ পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ বলেন, ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের অধীনে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ‘লিড’ সার্টিফাইড পোশাক কারখানা বর্তমানে বাংলাদেশেই রয়েছে। তিনি বলেন, পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র আরো বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে বিজিএমইএ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উভয়পক্ষই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
























