ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

তারল্য বাড়াতে শেয়ার নেটিং চায় ডিএসই, সুরক্ষা চায় বিএসইসি

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

তারল্য বাড়াতে শেয়ার নেটিং চায় ডিএসই, সুরক্ষা চায় বিএসইসি

সেকেন্ডারি মার্কেটে তারল্য বাড়ানোর লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ‘শেয়ার নেটিং’ চালুর প্রস্তাব দিলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ বিষয়ে কঠোর সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বিএসইসির মতে, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ছাড়া নেটিং সুবিধা চালু করা হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই অবস্থানের পেছনে অতীতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আর্থিক অনিয়ম, দুর্বল তদারকি ও গ্রাহকের অর্থ তছরুপের অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে।

কী এই ‘শেয়ার নেটিং’

‘শেয়ার নেটিং’ বা ‘স্ক্রিপ নেটিং’ হলো একটি ইনট্রা-ডে ট্রেডিং ব্যবস্থা, যেখানে বিনিয়োগকারী একই কার্যদিবসে একই শেয়ার একাধিকবার কেনা-বেচা করতে পারেন। দিনের শেষে মোট কেনা ও বিক্রির পার্থক্য সমন্বয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত শেয়ার অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে এই পদ্ধতি তারল্য ও লেনদেন বাড়াতে কার্যকর হলেও এর সঙ্গে শর্ট সেলিংয়ের মতো উচ্চ ঝুঁকির উপাদান যুক্ত থাকে।

বিএসইসির অবস্থান

বিএসইসির এক কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কমিশন নীতিগতভাবে শেয়ার নেটিংয়ের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করছে না। তবে যথাযথ অবকাঠামো ও তদারকি ছাড়া এই পদ্ধতি চালু করা হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

তিনি আরও জানান, ডিএসইর প্রস্তাব সরাসরি বাতিল করা হয়নি। বরং নেটিং চালুর আগে ডিএসইকে নিজস্ব ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্রোকারেজ ঝুঁকি বড় উদ্বেগ

বর্তমানে অনেক ব্রোকারেজ হাউজ মার্জিন ঋণ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থ হয়ে নেতিবাচক ইক্যুইটির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি, কিছু গ্রাহক এখনো ব্রোকারদের ক্যাশ তছরুপের ঘটনায় ক্ষতিপূরণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে বিএসইসির ধারণা, ব্রোকাররা যতদিন পর্যন্ত শক্তিশালী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে না পারছে, ততদিন নেটিং বা শর্ট সেলিংয়ের মতো জটিল ট্রেডিং ব্যবস্থা চালু করা ঝুঁকিপূর্ণ।

নেটিং চালুর জন্য বিএসইসির তিন শর্ত

শেয়ার নেটিং কার্যকরভাবে চালু করতে বিএসইসি তিনটি প্রধান শর্তের কথা জানিয়েছে—

১. আধুনিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা
বিনিয়োগকারী ও ব্রোকারদের বড় লোকসান থেকে রক্ষা করতে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু।

২. শর্ট সেলিংয়ের সুস্পষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত নিয়ম
শেয়ারের দাম কমলেও যেন বিনিয়োগকারীরা নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে লেনদেন করতে পারেন—সে জন্য পরিষ্কার বিধিমালা।

৩. সক্রিয় ও শক্তিশালী মার্কেট মেকার
বাজারে সব সময় ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দক্ষ মার্কেট মেকার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।

অতীত অভিজ্ঞতা ও বর্তমান বাস্তবতা

উল্লেখ্য, প্রায় দুই দশক আগে লেনদেন অটোমেশন চালুর শুরুর দিকে ডিএসইতে নেটিং সুবিধা চালু ছিল। তবে সে সময় লেনদেনের পরিমাণ ও বাজারের আকার ছিল সীমিত।
বর্তমানের বৃহৎ ও জটিল বাজারে পর্যাপ্ত সক্ষমতা ছাড়া এই পদ্ধতি পুনরায় চালু করলে বাজারে বিশৃঙ্খলা ও ঝুঁকি বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন বিএসইসি ও ডিএসইর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ