ML Dyeing IPO
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

সাইবার অপরাধের শিকার ৭০ ভাগই নারী


০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ শনিবার, ১০:০৫  এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক


সাইবার অপরাধের শিকার ৭০ ভাগই নারী

রাজধানীর মিরপুরে সিসিটিভি লাগানো একটি বাসায় সম্প্রতি চুরি করতে যাওয়ার আগে দুর্বৃত্তরা মাথায় হেলমেট পরে নেয়। তদন্তের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যাতে তাদের শনাক্ত করতে না পারে, সে জন্য তারা এ কৌশল নেয়।

আবার সাইবার অপরাধের মতো বৈশ্বিক অপরাধগুলোতে অনেক ক্ষেত্রেই সম্পৃক্ত থাকছে আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। অথচ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিউচুয়্যাল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্ট ট্রিটি না থাকায় অধিকাংশ সাইবার অপরাধীই আইনের আওতার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর এ ধরনের চতুর অপরাধীকে মোকাবেলা পুলিশ কতটা প্রস্তুত, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্বরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও বলছেন, আগামীতে সাইবার অপরাধীদের মোকাবেলা ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং আরও এগিয়ে নেওয়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের বিকল্প নেই।

ডিএমপির অপরাধ তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, নগরীতে ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন ও বিভিন্ন ঘটনায় পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। রাজধানীতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। শুধু ২০১৭ সালেই রাজধানীতে সাইবার অপরাধের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৪৬টি। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ২২১; ২০১৫ সালে ১৬৯টি। রাজধানীর সাইবার অপরাধের শিকার ৭০ ভাগই নারী। আক্রান্তদের বেশির ভাগের বয়সই ১৮-২৫ বছরের মধ্যে।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, আধুনিক পুলিশিংয়ে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। এরই মধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ নগরবাসীকে নানাভাবে সেবা দিচ্ছে। অপরাধ দমন এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে ডিএমপি আরও প্রযুক্তিনির্ভর হবে।

পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের ডিসি আলিমুজ্জামান বলেন, সাইবার অপরাধের ব্যপ্তি দিন দিন বাড়ছে। এগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে নতুন নতুন অপরাধ মোকাবেলা করা যাবে।

ডিএমপিতে বাড়ছে ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতন : ঢাকা মহানগর পুলিশের গত পাঁচ বছরের অপরাধ তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলছে। গত পাঁচ বছরে (২০১৩-১৭) রাজধানীতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ৫৫৬টি। ধর্ষিতা হয়েছেন ২০১৩ সালে ২৬২ জন, ২০১৪ সালে ২৭৮ জন, ২০১৫ সালে ৩১৬ জন, ২০১৬ সালে ৩২৫ ও ২০১৭ সালে ৩৭৫ জন। ২০১৩ সালের সঙ্গে তুলনা করলে ২০১৭ ঢাকায় ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ১১৩টি। এ ছাড়া পাঁচ বছরে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৯৫২ শিশু। ২০১৩ সালে ১৪৪ জন, ২০১৪ সালে ১৭৩ জন, ২০১৫ সালে ১৮৭ জন, ২০১৬ সালে ১৮০ জন ও ২০১৭ সালে ২৬৮ জন শিশু নির্যাতিত হয়েছে। পাঁচ বছরের মাথায় ২০১৭ সালে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে ১২৪টি। ধর্ষণের ঘটনা বাদে গত পাঁচ বছরে অন্যান্য কারণে নির্যাতিত হয়েছেন পাঁচ হাজার ৭২০ নারী- ২০১৩ সালে এক হাজার ২২৫, ২০১৪ সালে এক হাজার ১৬৪, ২০১৫ সালে এক হাজার ৪৭, ২০১৬ সালে এক হাজার ১৪৬ ও ২০১৭ সালে এক হাজার ১৩৮ জন। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে নারী নির্যাতনের সংখ্যা বেড়েছে। এ ছাড়া মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এ নিয়ে মামলার সংখ্যাও বেড়েছে। ২০১৩ সালে মাদক-সংক্রান্ত মামলা হয়েছিল সাত হাজার ৯২৭টি। ২০১৭ সালে এসে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ১৩ হাজার ৬৩৮টিতে গিয়ে দাঁড়ায়। ২০১৪ সালে সাত হাজার ৬৩টি, ২০১৫ সালে আট হাজার ৩৬৫টি ও ২০১৬ সালে ৯ হাজার ৬২৮টি মাদকসংক্রান্ত মামলা হয়েছে।

ঢাকায় খুনের ঘটনা গত বছর বেড়েছে :গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্নেষণে দেখা যায়, রাজধানীতে হত্যার ঘটনা ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে কমছে। তবে ২০১৭ সালে তা আবারও বেড়েছে। গত পাঁচ বছরে ঢাকায় খুনের ঘটনা ঘটে এক হাজার ১৫৪টি। এর মধ্যে ২০১৩ সালে ২৭০টি, ২০১৪ সালে ২৬২টি, ২০১৫ সালে ২৩৯টি, ২০১৬ সালে ১৬৫টি ও ২০১৭ সালে ২১৮টি। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডাকাতির ঘটনা ২০১৩ সালের চেয়ে ২০১৪ সালে বেড়ে গেলেও এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে কমেছে। পাঁচ বছরে রাজধানীতে এক হাজার ১২৮টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালে ২৮৮টি, ২০১৪ সালে ৩১২টি, ২০১৫ সালে ২৫০টি, ২০১৬ সালে ১৫৫টি ও ২০১৭ সালে ১২৩টি ঘটনা। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৪ সালে এসে অপহরণ বেড়ে যায়। ২০১৩ সালে ১৬৫ ও ২০১৪ সালে ১৭৬ জন অপহৃত হয়। অবশ্য এর পর থেকে পর্যায়ক্রমে কমেছে। ২০১৫ সালে ১৪৬টি, ২০১৬ সালে ১০৩টি ও ২০১৭ সালে ৮৫টি অপহরণের ঘটনা ঘটে।

বাড়ছে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা : ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে জঙ্গি হামলা ও রাজনৈতিক ঘটনাসহ বিভিন্ন হামলায় ৬২৭ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হন। এ হিসাবে দেখা গেছে, পুলিশের ওপর হামলা কখনও বেড়েছে, কখনও কমেছে। তবে এ পাঁচ বছরের মধ্যে এ ধরনের হামলা সবচেয়ে বেশি হয়েছে ২০১৩ সালে। ওই বছর ২০৩ জন, ২০১৪ সালে ১০৪ জন, ২০১৫ সালে ১১৮ জন, ২০১৬ সালে ৭০ জন, ২০১৭ সালে ১৩২ জন পুলিশ বিভিন্ন হামলার শিকার হন। পাঁচ বছরে ঢাকায় দুই হাজার ৯৩৯টি বাসায় চুরি হয়েছে। তবে এ সময় ঢাকায় গাড়ি চুরির ঘটনা কমেছে।

সাইবার অপরাধের শিকার তরুণীরাই বেশি :তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ প্রতিদিনই সাইবার অপরাধে আক্রান্ত হচ্ছেন। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, গুগল, স্কাইপিতে ভুয়া আইডি খুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল, ব্লগে মিথ্যা মানহানিকর তথ্য প্রচার, বিভিন্ন অ্যাপসে অশ্নীল ছবি, ভিডিও ও ম্যাসেজ পাঠিয়ে উত্ত্যক্ত করছে সাইবার অপরাধীরা। ফিশিংয়ের মাধ্যমে অন্যের আইডি হ্যাক করে প্রতারণাও করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধীদের শিকার ৫২২ জনকে নিয়ে পুলিশের এক গবেষণায় দেখা যায়, ভুক্তভোগীদের ৭০ শতাংশই নারী। তাদের মধ্যে ২৫ বছরের কমবয়সী নারী ৫৭ শতাংশ। সাইবার অপরাধের ধরনের মধ্যে রয়েছে জঙ্গিসংক্রান্ত এক শতাংশ, চাঁদাবাজি সাত শতাংশ, সাইবার পর্নোগ্রাফি ১৪ শতাংশ, হ্যাকিং ২০ শতাংশ, মানহানি ১৮ শতাংশ, ভুয়া আইডি ২০ শতাংশ ও অন্যান্য ছয় শতাংশ। সাইবার অপরাধের ভিকটিম ৫৮ শতাংশই ফেক আইডি এবং আইডি হ্যাক করে মানহানিকারী অপরাধীর শিকার।

সাইবার অপরাধ তদন্তে সংশ্নিষ্ট বিভাগের চ্যালেঞ্জ : সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও অভিযোগ প্রমাণ করা সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের জন্য সময়সাপেক্ষ ও বেশ চ্যালেঞ্জিং। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রিটি (এমএলএটি) না থাকা, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের লগ ডাটা সংরক্ষণে গাফিলতি, সংগঠিত অপরাধ সময়মতো না জানানো এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা ও দক্ষ জনবলের অভাব। আগামীতে সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় ডিজিটাল ফরেনসিক ইনভেস্টিগেশন টিম, সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন, ইন্টারনেট রেফারেল অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন, সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং, ই-ফ্রড ইনভেস্টিগেশন ও সাইবার ক্রাইম নিয়ে তদন্তের জন্য তিনটি টিম গঠনের পরিকল্পনা হচ্ছে।

ডিএমপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ :ডিএমপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন ও নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী উপস্থিত থাকবেন। এর আগে বিকেল পৌনে ৩টার দিকে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স পর্যন্ত র‌্যালি হবে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে রাজারবাগে বক্তব্য রাখবেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফায়ার ওয়ার্কস ও লেজার শোর আয়োজন করা হয়েছে। -সমকাল।

 

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: