ঢাকা   শনিবার ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

২০ কোটি টাকার অলস আইপিও তহবিল কাজে লাগাতে নতুন উদ্যোগ

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৪, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

২০ কোটি টাকার অলস আইপিও তহবিল কাজে লাগাতে নতুন উদ্যোগ

দীর্ঘদিন ধরে অলস পড়ে থাকা আইপিও তহবিলকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত লুব-রেফ (বাংলাদেশ) লিমিটেড। আর্থিক দায় পরিশোধ, ঋণ পুনঃতফসিল এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম জোরদারে আইপিও তহবিলের একটি অংশ ব্যবহারের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। এ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নিতে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করা হয়েছে।

কোম্পানিটির ভাষ্য অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কার্যকরী মূলধনের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে বিএমআরই প্রকল্পের জন্য প্রতিশ্রুত সিন্ডিকেটেড ঋণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রায় ২০ কোটি টাকার আইপিও তহবিল দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে স্বল্প মুনাফায় অলস অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

কীভাবে ব্যবহার হবে আইপিওর অর্থ?

পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আইপিও তহবিল থেকে প্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যবহার করে একটি বকেয়া এলসি দায় পরিশোধ করা হবে। ডলারে এর পরিমাণ ৩ লাখ ৬৪ হাজার ৮১১ মার্কিন ডলার।

এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট বাবদ আরও ৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

এই দুই খাতে অর্থ ব্যবহারের পর অবশিষ্ট আইপিও তহবিল কোম্পানির চলমান ব্যবসার কার্যকরী মূলধন হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?

সাধারণত আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নির্দিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব বা অর্থনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন এলে সেই অর্থ দীর্ঘ সময় অলস পড়ে থাকে। লুব-রেফের ক্ষেত্রে ঠিক এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অব্যবহৃত তহবিল ব্যাংকে ফেলে রাখার পরিবর্তে উৎপাদন, দায় পরিশোধ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যবহার করা হলে কোম্পানির নগদ প্রবাহ উন্নত হবে এবং আর্থিক চাপও কমবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারহোল্ডাররাও উপকৃত হতে পারেন।

শেয়ারহোল্ডারদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য স্পন্সর ও পরিচালক ছাড়া অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আগামী ৯ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে।

সভাটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজন করা হবে। শেয়ারহোল্ডাররা সরাসরি উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি অনলাইনেও অংশ নিতে পারবেন।

কোম্পানি জানিয়েছে, ইজিএমে অংশগ্রহণের যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে আগামী ৩০ জুন ২০২৬ রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজারে কী বার্তা দিচ্ছে?

লুব-রেফের এই উদ্যোগ দেখাচ্ছে যে, শুধুমাত্র তহবিল সংগ্রহ নয়, বরং সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও এখন কোম্পানিগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আইপিও তহবিলের বিকল্প ও উৎপাদনমুখী ব্যবহার অনুমোদন পেলে এটি অন্যান্য তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

সর্বশেষ