বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পরিচালিত সিভিল অ্যাসেট রিকভারি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রায় ৬০ শতাংশ নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত “আপডেট অফ সিভিল অ্যাসেট রিকভারি স্টেটাস” শীর্ষক এক সভায় এ অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর প্রধান ও উপপ্রধান, সংস্থাটির পরিচালকসহ ঋণের অর্থ বিদেশে পাচারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ফোকাল পয়েন্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গভর্নরের উপদেষ্টা এবং অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্সের সদস্য ফারহানুল গনি চৌধুরী সিভিল অ্যাসেট রিকভারি কার্যক্রমের সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।
আলোচনায় জানানো হয়, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ ফিরিয়ে আনতে সরকার দুই ধরনের প্রক্রিয়ায় কাজ করছে—ক্রিমিনাল ও সিভিল। এর মধ্যে ক্রিমিনাল প্রক্রিয়াটি সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে সিভিল প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠান ও লিটিগেশন ফান্ডার নিয়োগের মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে।
গোয়েন্দা তথ্য এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ বিশ্লেষণ করে সিভিল প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপে ছয়টি গ্রুপ নির্বাচন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১০টি ব্যাংক ৯টি আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট ৩৬টি এনডিএ স্বাক্ষর করেছে। তবে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, সরকারি ব্যাংকগুলো দ্রুত এনডিএ স্বাক্ষর সম্পন্ন করে এ কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে কয়েকটি ব্যাংক ইতোমধ্যে খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত তথ্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ শুরু করেছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন করতে পারে।
সভায় আরও জানানো হয়, প্রথম ধাপের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর বিদেশে পাচার হওয়া ঋণের অর্থ সংক্রান্ত ১০০টিরও বেশি মামলা নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, এই অর্থ মূলত সাধারণ আমানতকারীদের টাকা, তাই তা দ্রুত উদ্ধার করে আমানতকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, এ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো ব্যাংক যদি রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি গভর্নরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তিনি উৎসাহিত করেন এবং এমন পরিস্থিতি নিজেই মোকাবিলা করবেন বলে আশ্বাস দেন।
গভর্নর আরও নির্দেশ দেন, সিভিল প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আমানতকারীদের অর্থ পুনরুদ্ধারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।























