ঢাকা   শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

বুক বিল্ডিংয়ের ৩ কোম্পানি: এশিয়াটিক শীর্ষে, ছন্দ হারিয়েছে বেস্ট হোল্ডিং

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫১, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বুক বিল্ডিংয়ের ৩ কোম্পানি: এশিয়াটিক শীর্ষে, ছন্দ হারিয়েছে বেস্ট হোল্ডিং

২০২৪ সালে বড় প্রত্যাশা নিয়ে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় তিনটি কোম্পানি— এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, টেকনো ড্রাগ লিমিটেড এবং বেস্ট হোল্ডিং লিমিটেড। তালিকাভুক্তির সময় উচ্চ কাট-অফ মূল্য ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ থাকলেও এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিগুলোর পারফরম্যান্সে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট বৈষম্য।

বুক বিল্ডিংয়ে এশিয়াটিকের কাট-অফ মূল্য নির্ধারিত হয় ৫০ টাকা, তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার পান ২০ টাকায়। টেকনো ড্রাগের কাট-অফ ছিল ৩৪ টাকা (সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৪ টাকা) এবং বেস্ট হোল্ডিংয়ের কাট-অফ ছিল ৩৫ টাকা (সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৪ টাকা)।

তালিকাভুক্তির এক বছর পর দেখা যাচ্ছে—আর্থিক ফলাফল, ডিভিডেন্ড নীতি ও বাজার আস্থার ক্ষেত্রে তিন কোম্পানির অবস্থান একেবারেই ভিন্ন।

 ডিভিডেন্ডে ধারাবাহিকতায় এগিয়ে এশিয়াটিক ও টেকনো

ডিভিডেন্ড ঘোষণায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে।

৩০ জুন ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরে ১০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড

৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরেও ১০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড

টেকনো ড্রাগও তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ধারায় রয়েছে—

২০২৪ সালে ১২%

২০২৫ সালে ১০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড

অন্যদিকে বেস্ট হোল্ডিং ২০২৪ সালে ১০% ডিভিডেন্ড দিলেও ২০২৫ অর্থবছরের জন্য এখনো কোনো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেনি। নির্ধারিত সময়ে ডিভিডেন্ড ও আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল না করায় কোম্পানিটির শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে এসেছে। বিপরীতে এশিয়াটিক ও টেকনো ড্রাগ নিয়মিত প্রতিবেদন ও ডিভিডেন্ডের কারণে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন অব্যাহত রেখেছে।

 এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ: আয়ের উল্লম্ফন, মৌলভিত্তি শক্ত

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর ২০২৫) এশিয়াটিকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ২৪ পয়সা, যেখানে আগের বছর ছিল মাত্র ২৪ পয়সা—এক বছরে প্রায় পাঁচগুণ প্রবৃদ্ধি। একই সময়ে ক্যাশ ফ্লো বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ২ পয়সা এবং সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৫৫ টাকা ৩৩ পয়সা।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫) ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩৪ পয়সা। ফলে ছয় মাসে মোট ইপিএস দাঁড়ায় ২ টাকা ৫৮ পয়সা, যা আগের বছর ছিল মাত্র ৯৬ পয়সা। ছয় মাসে ক্যাশ ফ্লো বেড়ে হয়েছে ৪ টাকা ১ পয়সা এবং এনএভি উন্নীত হয়েছে ৫৬ টাকা ৭ পয়সায়। শক্তিশালী আয়, নগদ প্রবাহ ও সম্পদ বৃদ্ধির কারণে কোম্পানিটির মৌলভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

 টেকনো ড্রাগ: আয় কমলেও ক্যাশ ফ্লোতে ঘুরে দাঁড়ানো

টেকনো ড্রাগের পারফরম্যান্স তুলনামূলকভাবে মিশ্র।
প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর ২০২৫) ইপিএস নেমে আসে ৪৭ পয়সায়, যেখানে আগের বছর ছিল ৬৩ পয়সা। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও ইপিএস কমে দাঁড়ায় ৪০ পয়সায়। ফলে ছয় মাসে মোট ইপিএস হয়েছে ৮৭ পয়সা, যা আগের বছরের ১ টাকা ৮ পয়সার চেয়ে কম।

তবে ইতিবাচক দিক হলো—ছয় মাসে কোম্পানিটির ক্যাশ ফ্লো উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ১১ পয়সায়, যেখানে আগের বছর ছিল মাত্র ১৯ পয়সা। পাশাপাশি পুনর্মূল্যায়নের পর সম্পদ মূল্য বেড়ে হয়েছে ৩১ টাকা ৮ পয়সা।

 বেস্ট হোল্ডিং: অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীরা

চলতি অর্থবছরে কোনো প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় বেস্ট হোল্ডিংয়ের অবস্থান সবচেয়ে দুর্বল। ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করা এবং আর্থিক তথ্য হালনাগাদ না থাকায় শেয়ারটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 পিই রেশিওতে স্পষ্ট ব্যবধান

মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বিশ্লেষণেও এশিয়াটিক এগিয়ে রয়েছে।

এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ: ১১.৪৫

টেকনো ড্রাগ: ১৮.২৮

বেস্ট হোল্ডিং: আর্থিক তথ্য হালনাগাদ না থাকায় পিই অনুপাত নির্ধারিত হয়নি

একই সময়ে বুক বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে বাজারে এলেও সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা ও ডিভিডেন্ড নীতির পার্থক্যে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ বিনিয়োগকারীদের আস্থার শীর্ষে অবস্থান করছে। টেকনো ড্রাগ কিছুটা চাপে থাকলেও ক্যাশ ফ্লো উন্নতির কারণে সম্ভাবনা ধরে রেখেছে। বিপরীতে বেস্ট হোল্ডিংয়ের অনিয়ম ও তথ্য ঘাটতি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকির বার্তা দিচ্ছে।