ঢাকা   শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

ডাচবাংলা ব্যাংকের মুনাফায় ধস, কাগুজে ফুলে-ফেঁপে উঠছে রিজার্ভ  

শেয়ারবাজার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১১:৩৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১১:৪৩, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সর্বশেষ

ডাচবাংলা ব্যাংকের মুনাফায় ধস, কাগুজে ফুলে-ফেঁপে উঠছে রিজার্ভ  

মুনাফা এক বছরে ৪১ শতাংশ কমে গেছে। শেয়ারপ্রতি আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কমেছে। তবু হিসাবের খাতায় রিজার্ভ ফুলে-ফেঁপে উঠছে। এই পরস্পরবিরোধী চিত্রই এখন বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

২০২৩ সালে কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ৮,০১৭.৪০ মিলিয়ন টাকা। ২০২৪ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৪,৭৩৪.৭৬ মিলিয়নে। অর্থাৎ প্রায় ৩,৩০০ মিলিয়ন টাকার ধস। একই সময়ে ইপিএস ১০.৭২ টাকা থেকে ধসে পড়ে ৫.৩৯ টাকায়। এটি কোনো স্বাভাবিক ওঠানামা নয়—এটি কাঠামোগত চাপের ইঙ্গিত।

কিন্তু ঠিক এই সময়েই রিজার্ভ ও সারপ্লাসে যোগ করা হয়েছে ১,৭৬৬.৮২ মিলিয়ন টাকার রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভ। প্রশ্ন হচ্ছে—মুনাফা যখন কমছে, তখন সম্পদের কাগুজে মূল্য বাড়িয়ে মূলধনকে শক্তিশালী দেখানোর প্রয়োজন কেন? রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভ নগদ আয় নয়, এটি বাজারমূল্য নির্ভর হিসাবি সমন্বয়। তাহলে কি প্রকৃত আর্থিক দুর্বলতা আড়াল করতেই এই সংযোজন?

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো দায়ের চাপ। রিজার্ভ (Other Comprehensive Income(OCI) ছাড়া) প্রায় ৪১,৯৩০ মিলিয়ন টাকা, আর দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ৪০,৩৫০ মিলিয়ন টাকা। অর্থাৎ রিজার্ভ যতটা, দায়ও প্রায় ততটাই। তাহলে প্রকৃত নিরাপত্তা বাফার কোথায়?

শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যও কমেছে—২০২৩ সালের ৬৪.৪১ টাকা থেকে ২০২৪ সালে ৫৮.৭২ টাকায়। সম্পদের ভিত্তি সংকুচিত হচ্ছে, অথচ বাহ্যিক উপস্থাপনায় দৃঢ়তার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এটি কি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভ্রান্তিকর সংকেত নয়?

মালিকানার দিকেও পরিবর্তন স্পষ্ট। স্পন্সর/ডিরেক্টর শেয়ার ৮৬.৯৯ শতাংশ থেকে কমে ৮৩.৫৬ শতাংশে। মুনাফা কমার বছরে অভ্যন্তরীণ অংশীদারদের শেয়ার হ্রাস—এটি কি নিছক কাকতালীয়? নাকি ভবিষ্যৎ চাপের পূর্বাভাস?

২০২৫ সালের অন্তর্বর্তী ফলাফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হঠাৎ ১.০১ টাকা থেকে নেমে ০.১৭ টাকা হয়েছে। এক প্রান্তিকে এমন পতন সাধারণত বড় প্রভিশন, অনাদায়ী ঋণ বা এককালীন ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা কোথায়?

বাজারদরও চাপের মধ্যে। ৫২ সপ্তাহের সর্বোচ্চ ৫৩ টাকা থেকে শেয়ার নেমে ৪৩ টাকার ঘরে। বিনিয়োগকারীরা কি আগাম সংকেত পাচ্ছেন, যা প্রকাশ্য প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়?

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি স্বচ্ছতা নিয়ে। মুনাফা কমছে। এনএভি কমছে। আয় অস্থির। কিন্তু রিজার্ভ বাড়ছে—কাগুজে সমন্বয়ে।

এখানে উপস্থাপিত আর্থিক তথ্যের এই বৈপরীত্য গভীরতর নিরীক্ষা দাবি করে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নিরীক্ষক এবং বিনিয়োগকারীদের সামনে এখন মূল প্রশ্ন— এটি কি সাময়িক চাপ, নাকি হিসাব উপস্থাপনায় এমন কৌশল, যা প্রকৃত ঝুঁকিকে আড়াল করছে?

বাজার উত্তর চায়। এখনই।

এ বিষয়ে জানতে ডাচবাংলা ব্যাংকের সেক্রেটারি মোহাম্মদ মেসবাহউল আলমের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে এসএমএস পাঠিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ