দেশের শেয়ারবাজারে এক রহস্যময় উত্থান অব্যাহত রেখেছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস। কোম্পানির একটি কারখানা ইউনিট বন্ধ থাকা এবং বড় অংকের আর্থিক লোকসান সত্ত্বেও এর শেয়ার দর আকাশচুম্বী হচ্ছে। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েকমাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১২০ শতাংশ বেড়ে ১৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩৬ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) নিয়মিতভাবে এই কোম্পানির ঝুঁকি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে আসলেও কোনো কিছুতেই থামছে না এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা।
কোম্পানিটির বর্তমান ব্যবসায়িক অবস্থা ও আর্থিক পারফরম্যান্স এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিকে কোনোভাবেই সমর্থন করে না। ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটি বড় ধরনের লোকসান গুনেছে। অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৯ পয়সা, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ৯ পয়সা। ডিএসইর তথ্যমতে, টানা লোকসানের ফলে কোম্পানিটির পি/ই রেশিও (মূল্য-আয় অনুপাত) বর্তমানে ঋণাত্মক, যা চরম আর্থিক ঝুঁকি ও অস্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও কোম্পানিটি অডিটরের আপত্তির মুখে পড়েছে। ২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে টিডিএস ও ভিডিএস সংক্রান্ত অসংগতি পাওয়া গেছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অগ্রিম আয়কর সমন্বয় না করা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে কেনাকাটা ও লেনদেনের মতো গুরুতর অনিয়ম উঠে এসেছে। অডিটররা আরও জানিয়েছেন, কোম্পানিটি তাদের পাওনা আদায়ের সময়ভিত্তিক তালিকা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে এই টাকা আদৌ আদায়যোগ্য কি না তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত ৩ ও ৪ নভেম্বর ডিএসইর একটি প্রতিনিধি দল সাভারের আশুলিয়া এবং নরসিংদীর পলাশে কোম্পানিটির কারখানা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে দেখা যায়, আশুলিয়া ইউনিট চালু থাকলেও পলাশের ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ। এই তথ্যটি ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রায় প্রতিটি ট্রেডিং সেশনে প্রচার করা হলেও বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনার হিড়িক কমেনি।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডমিনেজ স্টিল গত কয়েক বছর ধরে ০.২৫ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত নামমাত্র ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করে আসছে। মূলত ‘বি’ ক্যাটাগরি ধরে রাখা এবং ‘জাঙ্ক’ শেয়ার হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া এড়াতেই কোম্পানিটি এই নগণ্য ডিভিডেন্ড দিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালে কোম্পানিটি ১০৬ মিলিয়ন টাকা মুনাফা করলেও এরপর থেকে তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। ২০২৪ সালে যা মাত্র ২.৮৩ মিলিয়ন টাকায় নেমে আসে। বর্তমানের এই লোকসানি অবস্থা ও বন্ধ কারখানার মধ্যে শেয়ার দরের এমন উল্লম্ফন বাজারে কারসাজির আশঙ্কাকে আরও প্রবল করছে।
























