ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২

শেয়ারবাজারে কারসাজি! সিটি ব্যাংকসহ ৭ জনকে জরিমানা

শেয়ারবাজারে কারসাজি! সিটি ব্যাংকসহ ৭ জনকে জরিমানা

 শেয়ারবাজারে কারসাজির অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দ্য সিটি ব্যাংক, ব্যাংকটির তৎকালীন ফান্ড ম্যানেজার এবং আরও পাঁচ ব্যক্তিকে জরিমানা করেছে। ২০২৪ সালের পাঁচ মাসব্যাপী লেনদেনকালে অগ্নি সিস্টেমস–এর শেয়ারদর প্রভাবিত করার অভিযোগে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিএসইসির জানুয়ারি মাসের এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৫ জুন থেকে ১৮ নভেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত ৬৮টি লেনদেন দিবসে মোট ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় এবং ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রয় করা হয়। এ সময় অগ্নি সিস্টেমসের শেয়ারদর ২৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ অক্টোবর ৪১ টাকা ২০ পয়সায় পৌঁছায়—অর্থাৎ প্রায় ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি। পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর শেয়ারদর নেমে আসে ২৮ টাকা ৮০ পয়সায়।


তদন্তে দেখা যায়, লেনদেন চলাকালে সিটি ব্যাংক ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকার মূলধনী ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ জন্য ব্যাংকটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ব্যাংকের তৎকালীন পোর্টফোলিও ম্যানেজার সানোয়ার খান ওই সময়ে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ক্যাপিটাল গেইন করেন। তাকে ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তার স্ত্রী আসমাউল হুসনা ১৫ লাখ টাকা মুনাফা করলেও ১ লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে। তার ভাই আনোয়ার পারভেজ খান ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মুনাফার বিপরীতে ২ লাখ টাকা জরিমানার মুখে পড়েছেন।

অন্যদের মধ্যে—আবু তাহের শিকদার: ৬৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মুনাফার বিপরীতে ৬২ লাখ টাকা জরিমানা, উম্মে সালমা নিপা: ১১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লোকসান হলেও ২ লাখ টাকা জরিমানা, বিপ্লব শেখ: ৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা মুনাফার বিপরীতে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ–এর সার্ভেইলেন্স বিভাগের ট্রেড মনিটরিং তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিশন দেখতে পায়, অভিযুক্তরা অস্বাভাবিকভাবে সক্রিয় লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করেন। ধারাবাহিক লেনদেনের ফলে শেয়ারদরে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়, যা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯–এর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।


সিটি ব্যাংক জানায়, তাদের ক্যাপিটাল মার্কেট পোর্টফোলিও পূর্বে সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করত। ১০ জুন ২০২৪ থেকে সানোয়ার খানকে ফান্ড ম্যানেজার হিসেবে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়।

ব্যাংকের দাবি, সানোয়ার তার ব্যক্তিগত বা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে পরিচালিত লেনদেন সম্পর্কে ব্যাংককে অবহিত করেননি। ১৮ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বিএসইসির কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পর বিষয়টি ব্যাংক জানতে পারে।

তদন্ত-পরবর্তী সময়ে ১৯ আগস্ট ২০২৫ থেকে সানোয়ার খানকে ফান্ড ম্যানেজার পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে ব্যাংক জানিয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ নীতিমালা পুনর্মূল্যায়ন করে ব্যক্তিগত বা সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নৈতিক নির্দেশিকা প্রবর্তনের কথাও জানানো হয়।

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শেয়ারবাজারে কারসাজি দমনে নজরদারি জোরদার এবং বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি আরোপের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।