টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আজও (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সূচক কমে লেনদেন শেষ হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। তবে ধারাবাহিক পতন সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগ বা আতঙ্ক দেখা যায়নি।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে সূচক ২০০ পয়েন্টের বেশি বাড়ার পর গত তিন কার্যদিবসে মোটামুটি ৮১ পয়েন্টের সংশোধন হয়েছে। ফলে এই পতনকে বড় ধস না বলে স্বাভাবিক মার্কেট করেকশন হিসেবেই দেখছেন তারা। তাদের ধারণা, বাজার এখনও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেই রয়েছে এবং সামনে সূচক আরও উচ্চতায় যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
তারা আরও জানান, নতুন সরকারের শপথগ্রহণের পর আজ ছিল বাজারের প্রথম পূর্ণ কর্মদিবস। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ঘিরে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে এদিন লেনদেনের গতি কিছুটা মন্থর ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সূচক ও লেনদেনে আবারও গতি ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ এদিন সূচকের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর নিম্নমুখী থাকলেও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি। বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়ে লেনদেনে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫১৯ দশমিক ১৩ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১১ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৫ দশমিক ২৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৬ দশমিক ১৯ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ১১০ দশমিক ৪ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৮২টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৮৬টির কমেছে এবং ২৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯৩৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকার তুলনায় ২৮৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা কম।
অন্যদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এ এদিন ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ২৩ কোটি ৯ লাখ টাকার তুলনায় কম।
সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২২৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৮টির দর বেড়েছে, ১২৭টির কমেছে এবং ২৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৫ হাজার ৫১৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক কমেছিল ৯ দশমিক ৪২ পয়েন্ট।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি আতঙ্কের নয়; বরং এটি একটি স্বাভাবিক সমন্বয়। বিনিয়োগকারীরা সচেতন ও হিসেবি অবস্থান বজায় রাখলে বাজারের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
























