টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মঙ্গলবারও (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক বেড়েছে, তবে আগের দিনের তুলনায় টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন কিছুটা কমেছে। ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক ও হিসেবি অবস্থান নিয়ে লেনদেন করছেন বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ার বিক্রির তুলনায় ক্রয়ের আগ্রহ বাড়লেও ঝুঁকি এড়াতে অনেক বিনিয়োগকারী অপেক্ষাকৃত সংযত কৌশল অনুসরণ করছেন। ফলে সূচক সবুজ থাকলেও সামগ্রিক লেনদেনের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, বাজার ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে—এমন মতও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে এবং সামনের দিনে বাজার আরও স্বাভাবিক ধারায় ফিরবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৮ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৬৬ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে। একই দিনে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৪ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭০ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট। অপরদিকে, ডিএসই-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ২১ দশমিক ৭০ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৮৯টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১৫৩টির কমেছে এবং ৫২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
লেনদেনের চিত্রে দেখা যায়, মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট প্রায় ৭১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৭৪৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৩৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা কম।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যেখানে আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৬৫টির কমেছে এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৯ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৬০ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসে সূচকটি ১১১ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছিল।
























