বাংলাদেশের মৎস্য খাতে শিল্প-স্কেলের আধুনিকায়ন ও রপ্তানিমুখী উৎপাদন নিশ্চিত করতে ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাসেন্টফট অ্যাকুয়া’–র সঙ্গে অংশীদারিত্বে বড় বিনিয়োগে যাচ্ছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
ইনডোর বা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত বদ্ধ পরিবেশে নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য একটি অত্যাধুনিক উৎপাদন স্থাপনা গড়ে তোলা হবে, যেখানে ব্যবহার করা হবে রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (RAS) প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি পরিশোধন ও পুনঃব্যবহার সম্ভব হবে, ফলে পরিবেশের ওপর চাপ কমিয়ে উচ্চ-ঘনত্বে মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করা যাবে।
সমঝোতা স্মারক ও বিনিয়োগ কাঠামো
গত ২২ জানুয়ারি ঢাকার প্রাণ সেন্টারে এ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জ অ্যাগ্রো লিমিটেড।
প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পে বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ৩০ মিলিয়ন ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২৯ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত কারখানাটি মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল বা অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করা হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে কয়েক ধাপে এই বিশাল বিনিয়োগ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
কী মাছ উৎপাদন হবে?
প্রকল্পটির মূল ফোকাস থাকবে এশিয়ান সি-বাস বা কোরাল মাছ চাষে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে
গ্রুপার
ইলিশের মতো উচ্চ-মূল্যের মাছ
চাষের সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রতিটি মাছ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ গ্রাম ওজনের হলে বাজারজাত করা হবে।
উৎপাদিত মাছের সিংহভাগ বিদেশে রপ্তানি করা হবে, তবে একটি নির্দিষ্ট অংশ স্থানীয় বাজারেও সরবরাহ করা হবে।
উৎপাদন ও প্রত্যাশা
পুরোদমে উৎপাদন শুরু হলে এই স্থাপনা থেকে বছরে প্রায় ২ হাজার টন মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াস মৃধা বলেন,
“এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো শিল্প-স্কেলে কোরাল মাছ উৎপাদনের পথ খুলবে।”
অন্যদিকে, অ্যাসেন্টফট অ্যাকুয়ার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেনস ওলে ওলেসেন জানান,
ডেনিশ সরকারের অর্থায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের মৎস্য খাতে বড় পরিবর্তন আনবে।
অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারে প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও রপ্তানিমুখী উৎপাদন দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া, প্রকল্পটি সফল হলে সংশ্লিষ্ট খাতে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক ক্যাশ ফ্লো ও মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
























