সদ্য গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে মুনাফা না পাওয়ার আশঙ্কা ও ‘হেয়ারকাট’ আতঙ্কের অবসান ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন সিদ্ধান্তে জানিয়েছে—২০২৪ ও ২০২৫ সালে ব্যক্তিগত বা অ-প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীরা তাঁদের জমাকৃত অর্থের ওপর বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে রাখা মেয়াদি ও স্কিমভিত্তিক আমানতের বিপরীতে ব্যাংক রেট অনুযায়ী ৪ শতাংশ মুনাফা পরিশোধ করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, আমানতকারীদের আর্থিক দুর্দশা লাঘব এবং নতুন গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।
কোন ব্যাংকগুলো একীভূত?
উল্লেখ্য, গত বছর প্রণীত ‘ব্যাংক রেজোলিউশন স্কিম–২০২৫’–এর আওতায় দেশের পাঁচটি সংকটাপন্ন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক—
এক্সিম ব্যাংক
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক
ইউনিয়ন ব্যাংক
সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক
এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে গঠন করা হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। গত ১ ডিসেম্বর সরকার এই ব্যাংককে ৩৫ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনসহ লাইসেন্স দেয়, যার মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা সরাসরি সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে।
আগের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, আন্দোলন ও শাখা অচল
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ২০২৪ ও ২০২৫—এই দুই বছর আমানতের ওপর কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না, এমনকি আমানতের একটি অংশ কেটে রাখার বা ‘হেয়ারকাট’ পদ্ধতিও প্রয়োগের পরিকল্পনা ছিল।
এই ঘোষণার পর মাঠ পর্যায়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। বিভিন্ন শাখায় বিক্ষোভ, ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের টঙ্গী ও কুমিল্লার ধোরকারা বাজার শাখাসহ কয়েকটি শাখা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক শাখা ব্যবস্থাপক অফিস বন্ধ করে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠান।
এক সপ্তাহেই ইউটার্ন
গ্রাহকদের ধারাবাহিক আন্দোলন, শাখাগুলোর অচলাবস্থা এবং নগদ অর্থের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
বাজারে আস্থা ফেরার ইঙ্গিত
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারী ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাংক খাতের ওপর আস্থা কিছুটা হলেও ফিরে আসবে। চলমান আর্থিক সংকটে আমানতকারীদের মুনাফা নিশ্চিত করা না গেলে পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত।
৪ শতাংশ মুনাফার এই নিশ্চয়তা অন্তত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ ও সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা হলেও কমাবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
























