ঢাকা   শনিবার ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মন্ত্রণালয়ের পুনর্গঠন: একীভূত করার প্রস্তাব ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

বিশেষ প্রতিবেদন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৪৯, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

সর্বশেষ

মন্ত্রণালয়ের পুনর্গঠন: একীভূত করার প্রস্তাব ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

বাংলাদেশের জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছে যে, দেশের বিদ্যমান মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংখ্যা কমানো হবে এবং কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগ একীভূত করে নতুন নামে প্রতিষ্ঠিত হবে। এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও কার্যকর এবং সুসংগঠিত করা, যাতে সরকারী কাজকর্মে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

কমিশনের প্রস্তাবিত প্রধান পরিবর্তনগুলো:

 মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩ থেকে ২৭:

  • বর্তমান ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও ৬১টি বিভাগের পরিবর্তে মোট ২৭টি মন্ত্রণালয় এবং ৪৫টি বিভাগ প্রস্তাব করা হয়েছে।
  • এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নিয়োগের প্রস্তাব:

    • একাধিক বিভাগ সংবলিত মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে, যিনি মন্ত্রীকে পরামর্শ প্রদান করবেন এবং বিভাগের মধ্যে সমন্বয় সাধন করবেন।

      মন্ত্রণালয় একীভূতকরণ:

      • শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়: শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় একীভূত হয়ে একটি নতুন মন্ত্রণালয় হবে, যার অধীনে শিল্প বিভাগ, বাণিজ্য বিভাগ ও পাট ও বস্ত্র বিভাগ থাকবে।
      • যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে একীভূত করে একটি নতুন মন্ত্রণালয় গঠিত হবে।
      • স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়গুলোকে একীভূত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তৈরি করা হবে।
      • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়: তথ্য মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় একীভূত হয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় হবে।
      • কৃষি মন্ত্রণালয়: কৃষি, মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় একীভূত হয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় তৈরি হবে।

        প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ও সচিবদের দায়িত্ব:

        • প্রতিটি একীভূত মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী এবং যথাযথ সংখ্যক সচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।

          বিশেষ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পুনর্গঠন:

          • প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়: বর্তমান সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সঙ্গে একীভূত হয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য মিলিটারি সেক্রেটারি নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।
          • পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: পরিকল্পনা বিভাগ, আইএমইডি বিভাগ এবং পরিসংখ্যান বিভাগকে একইভাবে রেখে, পরিকল্পনা কমিশন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত হবে, যারা সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি সংক্রান্ত পরামর্শ দিবেন।

            নতুন প্রস্তাবিত বিভাগসমূহ:

            • পানিসম্পদ, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়: বর্তমান পানি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে একীভূত করে একটি নতুন মন্ত্রণালয় তৈরি হবে, যার অধীনে ভূমি বিভাগ, পানিসম্পদ বিভাগ এবং বন ও পরিবেশ বিভাগ থাকবে।
            • খাদ্য, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়: খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় একীভূত হবে।
            • বিশেষ খাতে সংস্কার:
              • মুক্তিযুদ্ধ, সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়: মুক্তিযুদ্ধ, সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়গুলো একীভূত হয়ে নতুন মন্ত্রণালয় গঠিত হবে, যার অধীনে তিনটি বিভাগ থাকবে।

পূর্ববর্তী প্রশাসনিক কাঠামো:

  • বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারের ৪৩টি মন্ত্রণালয় এবং ৬১টি বিভাগ রয়েছে। কমিশন এই কাঠামোকে যুক্তিসংগতভাবে কমিয়ে এবং পুনর্বিন্যাস করে ২৫টি মন্ত্রণালয় ও ৪০টি বিভাগ গঠনের সুপারিশ করেছে। এর পাশাপাশি, মন্ত্রণালয়গুলোকে সমপ্রকৃতির পাঁচটি গুচ্ছে বিভক্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

ফলস্বরূপ কী হবে?

  • এই সংস্কারের মাধ্যমে সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো আরও কার্যকর, সুসংহত ও কম খরচে পরিচালিত হবে। এটা সরকারি কাজকর্মে স্বচ্ছতা এবং জনসাধারণের জন্য আরও দ্রুত সেবা প্রদান করতে সহায়ক হবে।

এই বড় ধরনের প্রশাসনিক পরিবর্তন কার্যকর হলে, বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা আরও দক্ষ এবং উন্নত হতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

শেয়ার বিজনেস24.কম

সর্বশেষ