
টিন সার্টিফিকেট বা ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN) একটি ইউনিক নম্বর, যা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয়কর সংক্রান্ত কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়। এটি করদাতার পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে এবং আয়কর দাখিলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় অনেকে শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, পাসপোর্ট, ভিসা, সরকারি ফর্মালিটিজ বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে TIN সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন। এরপর তা ব্যবহার না করে বছরের পর বছর ফেলে রাখেন, অথচ প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এ কারণে অনেকেই টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে চান।
কখন TIN বাতিল করা যায়?
টিন সার্টিফিকেট বাতিল করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু যৌক্তিক কারণ থাকতে হয়। যেমন: কেউ যদি ব্যবসা বা চাকরি ছেড়ে দেন এবং তার আয় করযোগ্য সীমার নিচে চলে আসে, সেক্ষেত্রে তিনি TIN বাতিল করতে পারবেন। আবার অনেকে ভুল করে একাধিক TIN তৈরি করে ফেলেন—সেক্ষেত্রে একটি TIN রেখে অন্যটি বাতিল করা দরকার। কেউ কেউ বিদেশে স্থায়ীভাবে চলে গেলে এবং দেশে আয় না থাকলে তার জন্যও TIN বাতিলের আবেদন করা যায়। এমনকি করদাতা মৃত্যুবরণ করলে তার উত্তরাধিকারীরা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিয়ে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করতে পারবেন। তবে যদি মৃত ব্যক্তির নামে ব্যবসা চালু থাকে, তাহলে সরাসরি বাতিল করা যাবে না—সেক্ষেত্রে আলাদা করপোরেট কাঠামোর বিষয় বিবেচনা করতে হয়।
কীভাবে অনলাইনে TIN বাতিল করবেন?
TIN সার্টিফিকেট বাতিল করতে চাইলে আপনি অনলাইনে NBR-এর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে পারেন। এজন্য প্রথমে www.nbr.gov.bd সাইটে প্রবেশ করে আপনার ই-টিন অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। যদি একাউন্ট না থাকে, তাহলে সাইন আপ করে একাউন্ট খুলতে হবে। এরপর টিন বাতিলের জন্য নির্ধারিত আবেদন ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্মে আপনার টিন নম্বর, নাম, পেশা বা ব্যবসার বিবরণ এবং বাতিলের কারণ উল্লেখ করতে হবে। ফর্ম সাবমিট করার পর এনবিআর আবেদনটি যাচাই করবে। অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন হলে তা জানাবে এবং সব ঠিকঠাক থাকলে আপনার TIN বাতিল করে দেবে। একবার বাতিল হয়ে গেলে আপনি আয়কর রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতি পাবেন।
কীভাবে অফলাইনে আবেদন করবেন?
অনেকে অনলাইন পদ্ধতিতে সাবলীল না হলে অফলাইনে, অর্থাৎ নিজ এলাকার কর অফিসে গিয়ে আবেদন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে করদাতাকে নিজের পরিচয়পত্র, টিন সার্টিফিকেট, ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঘোষণা (যদি থাকে), এবং সর্বশেষ তিন বছরের শূন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রমাণপত্রসহ আবেদন জমা দিতে হবে। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট যাচাই-বাছাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট কর অফিস আপনার টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবে এবং এক্ষেত্রে আপনি একটি আনুষ্ঠানিক বাতিল সনদ পাবেন।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ:
TIN বাতিল করা মানে আপনি আর কোনো কর রিটার্ন জমা দিতে বাধ্য নন, কিন্তু ভবিষ্যতে যদি আবার আয় শুরু করেন বা কোনো দাপ্তরিক কাজে TIN প্রয়োজন হয়, তাহলে নতুনভাবে TIN-এর জন্য আবেদন করতে হবে। বাতিল হওয়া পুরাতন নম্বর আর ব্যবহার করা যাবে না। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনি সত্যিই TIN ছাড়া থাকতে পারবেন কি না। এছাড়া যারা বিদেশে থাকেন বা সাময়িকভাবে আয় নেই, তারা চাইলে ‘জিরো রিটার্ন’ দাখিল করেও করদাতা হিসেবে সক্রিয় থাকতে পারেন—যা ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে।