JAC EnergyPac Power
Crystal Life Insurance
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

পুঁজিবাজারে উল্টো চিত্র


১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৭:৩৬  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেয়ার বিজনেস24.কম


পুঁজিবাজারে উল্টো চিত্র

মহামারিকালে আগের বছরের চেয়ে বেশি আয় করেছে, লভ্যাংশের প্রস্তাবও এসেছে ভালো। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাংক বহির্ভুত তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার পর নিম্নমুখী।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয়ে উঠা ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির ব্যবসা বাড়াতে নতুন করে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের খবর প্রকাশের দিন কমেছে এই কোম্পানির শেয়ার দরও।

আগের বিমা কোম্পানির বেশিরভাগ শেয়ারে ক্রেতা না থাকলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উল্টোচিত্র। কমে গেছে বেশিরভাগ শেয়ারের দর।

ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, প্রকৌশল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেলি কমিউনিকেশনসহ প্রধান প্রধান খাতগুলোর সবগুলোই নিম্নমুখী।

রোববার পতন দিয়ে শুরু হওয়া পুজিবাজার সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবারও হতাশ করল বিনিয়োগকারীদের।

এদিন তিনটি মোট চারটি কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ হয়। আগের বছরের চেয়ে প্রায় দেড় গুণ মুনাফা ও ৩৫ শতাংশ (শেয়ারপ্রতি সাড়ে তিন টাকা) নগদ লভ্যাংশ বিতরণের সিদ্ধান্তের কথা জানায় আইডিএলসি ফাইনান্স।

আইপিডিসি ফাইনান্স আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি মুনাফা ও শেয়ার প্রতি ১২ শতাংশ (এক টাকা ২০ পয়সা) নগদ আর বিডি ফিনান্স আগের বছরের চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি মুনাফা ও ১২ শতাংশ লভ্যাংশ (প্রতি ১০টি শেয়ারে ছয়টি বোনাস ও শেয়ার প্রতি ৬০ পয়সা) লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দেয়।

করোনা মহামারিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয় কমে যাওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা এতদিন বলাবলি হচ্ছিল, সেটি দৃশ্যত সত্য হয়নি। এই বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির খবর হওয়া উচিত।

কিন্তু শেয়ারপ্রতি আইডিএলসি দর হারিয়েছে ৩০ পয়সা, আইপিডিসি হারিয়েছে ২০ পয়সা আর বিডি ফিনান্স হারিয়েছে ৮০ পয়সা।

একই দিন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি জানায়, তারা বিদেশে সিগারেট রপ্তানি করতে চায়। এ জন্য সাভারে কারখানা সম্প্রসারণ করতে ১৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবে তারা।

এই খবর আসার দিন ১০ টাকা ৬০ পয়সা কমেছে কোম্পানির শেয়ার দর।

ভালো খবরের প্রভাবও নেই পুঁজিবাজারে
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি ১৯২ কোটি টাকায় কারখানা সম্প্রসারণের সংবাদ দেয়ার পরদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে বেশিরভাগ শেয়ারের দরের পাশাপাশি কমেছে মূল্য সূচক। লেনদেন কমে সাতশ কোটির নিচে নেমেছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিনিয়োগাকারীরা এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ডে ট্রেডিংয়ে। আজ শেয়ার কেনার পর কাল লাভ হবে কি না সেটাই বিনিয়োগাকারীদের কাছে প্রধান বিষয়। ফলে কোম্পানি তার উন্নয়নে কী কাজ করছে বা কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তাতে আগ্রহ কম বিনিয়োগকারীদের।

বিনিয়োগাকরীদের এমন আচরণ সম্পর্কে বাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, ‘কোম্পানি কী ঘোষণা দিয়েছে তাতে নজর নেই বিনিয়োগকারীদের। বেশিরভাগ বিনিয়োগাকারীর নজর আজ কেনার পর কাল লাভ হবে কি না।’

তিনি বলেন, ‘এসব কোম্পানির শেয়ার কেউ কিনেনি সেটা কিন্ত সত্য না। কেউ না কেউ কিনেছে। তবে পুঁজিবাজারের এসব বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রশিক্ষণ বা জানান দিতে হবে।’

আবু আহমদের ধারণা, বিমা খাত নিয়ে কারসাজি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বুধবার এমন কী ঘটনা ঘটেছিল যে সব বিমা কোম্পানির শেয়ারের বিক্রেতা শূন্য হয়ে গেল? আর আজ আবার সব শেয়ারের দর কমে গেল। ফলে পুরো কাজটিই সংঘবদ্ধভাবে করা হয়েছে।’

বুধবার বিমা খাতের বেশিরভাগ শেয়ারের দর সর্বোচ্চ সংখ্যক বাড়লেও বৃহস্পতিবার কমেছে বেশিরভাগের দর
বুধবার লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ৪৯টি বিমা কোম্পানির মধ্যে ২৫টি বেশি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছিল সাড়ে নয় শতাংশের বেশি। এসব শেয়ারের কোনো বিক্রেতা ছিল না।

একদিনের ব্যবধানে বৃহস্পতিবার মাত্র ছয়টি বিমা কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে। আর তিনটির দর পাল্টায়নি। বাকি ৪০টি কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। দর পতনের শীর্ষ দশ কোম্পানির সাতটি ছিল বিমার।

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী মোজাম্মেল হক বলেন, ‘বুধবার বিমা কোম্পানির উত্থানের কারণে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী ধরে নিয়ে ছিলেন বৃহস্পতিবারও উত্থান হবে। এই ভেবে অনেকে শেয়ার কিনেছেনও। কিন্ত সকালে বেশি দামে কিনে বিকালেই লোকসানে তারা।’


বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৭ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭৫ পয়েন্টে।


বৃহস্পতিবার লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্য সূচক যেখানে দাঁড়িয়ে
শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৮ দশমিক ৪২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪২ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১৪ দশমিক ৮২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১০৫ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়ার ৩৪৬ কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৬টির, কমেছে ১৪৪টির ও পাল্টায়নি ১২৬টির। লেনদেন হয়েছে ৬৯৪ কোটি টাকা।

আগের দিন বুধবার লেনদেন হয়েছিল ৮৬৩ কোটি টাকা। ফলে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১৬৯ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১২০ দশমিক ০২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮২১ পয়েন্টে।

লেনদেন হওয়া ২২৮টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৬টির, কমেছে ১১১টির ও পাল্টায়নি ৬১টির। এ সময়ে মোট লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি টাকা।


বৃহস্পতিবার ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৯.৯২ শতাংশ। ফার ইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডায়িং ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে ৭.৩৬ শতাংশ। এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৬.২৩ শতাংশ। ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৬.০২ শতাংশ।

এছাড়া এ তালিকায় ছিল আমান ফিড, জাহিন টেক্সটাইল, ওয়ালটন।

দর পতনের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, যার ৬.০৯ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে। তওফিকা ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার দর কমেছে ৫.৪৩ শতাংশ।

এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি ছিল বিমা খাতের কোম্পানি। এর মধ্যে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স ও প্রভাতি ইন্সুরেন্সের দর কমেছে। এছাড়া রবি ও গ্রামীনফোনের শেয়ারের দর কমেছে যথাক্রমে ৪.৬১ শতাংশ ও ৪.৬০ শতাংশ।

লেনদেনে আবার শীর্ষে বেক্সিমকো লিমিটেড

পুঁজিবাজারে বরাবরের মতো লেনদেনে এগিয়ে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, যার দুই কোটি ৩৭ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯২টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১৩ কোটি ১৬ লাখ টাকায়।

গত দুই মাস ধরেই প্রায় প্রতি দিনই এই কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এই সময়ে হাতে গোনা এক দুই দিন কেবল অন্য কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের শীর্ষে যেতে পেরেছে।

এদিন রবির এক কোটি ১০ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ২০ লাখ টাকায়। বেট বাংলাদেশের দুই লাখ ৫৭ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৪৬ লাখ টাকায়।

বেক্সিমকো ফার্মার এক কোটি ৫৩ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায়।

এছাড়া এ তালিকায় ছিল লংকাবাংলা ফিন্যান্স, স্কয়ারফার্মা, সামিট পাওয়ার, বিকনফার্মা।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: