Sahre Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

বদলাচ্ছে দুদক আইন, জালিয়াতি তদন্তের ভার পাচ্ছে পুলিশ


১০ আগস্ট ২০১৫ সোমবার, ০৫:০৬  পিএম


বদলাচ্ছে দুদক আইন, জালিয়াতি তদন্তের ভার পাচ্ছে পুলিশ

আইনি এখতিয়ারের চক্করে প্রতারণা ও জালিয়াতির পাঁচটি ধারার মামলার ‘পাহাড়’ জমে ওঠার পর অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন সংশোধন হচ্ছে। এ ধরনের মামলার এখতিয়ার দুদকের হাত থেকে দেওয়া হচ্ছে পুলিশকে। এ জন্য আইন সংশোধনের একটি প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘দুনীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০১৫’ এর খসড়ায় এই নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সরকারি সম্পত্তি এবং সরকারি ও ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলার ভার দুদকের হাতেই থাকছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারি সম্পত্তি সম্পর্কিত এবং সরকারি ও ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত প্রতারণা বা জালিয়াতি মামলা ছাড়া অন্যান্য প্রতারণা ও জালিয়াতি মামলার দায়িত্ব পুলিশ পাবে।” ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও অপরাধজনিত বিশ্বাসভঙ্গের মতো বিষয়গুলো দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধের তালিকায় ছিল। ২০০৯ সালে মুদ্রা পাচারের অভিযোগও দুদকের তফসিলে যুক্ত হয়। আর ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে এক সংশোধনীতে ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৬৯ ও ৪৭১ ধারার অপরাধ তদন্তের দায়িত্বও দুদকের ওপর বর্তায়। এই ধারাগুলোর মধ্যে প্রতারণার অভিযোগ ৪২০ ধারার অন্তর্ভুক্ত। অন্যগুলো ব্যক্তিগত অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতি সংক্রান্ত মামলার ধারা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত এসব ধারার মামলাগুলোর তদন্ত করত পুলিশ; বিচার চলত হাকিম আদালতে। কিন্তু ‘ক্রিমিনাল ল’ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ অনুযায়ী দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধগুলোর বিচারের এখতিয়ার জেলা জজ আদালতের হাতে চলে যায়। আর জজ আদালতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এসব মামলার বিচারকাজে তৈরি হয় দীর্ঘসূত্রতা। সচিব বলেন, “মূলত বাংলাদেশে হাজার হাজার মামলা হয় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায়, এত বেশি মামলা হয় যে দুদকের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। ২০০৪ সালের মূল আইনে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা শিডিউলভুক্ত ছিল না। হয়ত ভাল উদ্দেশ্যেই ২০১৩ সালে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এ ধারা যোগ করেছিল।” আইন সংশোধনের পর পুলিশ স্বাভাবিকভাবেই ৪২০ ধারার মামলা নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এখতিয়ার না থাকার কথা বলে অভিযোগকারীদের দুদকে যাওয়ার পরামর্শ দিতে থাকে তারা। অন্যদিকে লোকবলের অভাবের কথা বলে দুদক এসব অভিযোগের তদন্ত না করায় প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মামলা নিয়ে তৈরি হয় অচলাবস্থা। সারা দেশে এরকম কত অভিযোগ দুদকে আটকে আছে সে বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও রাজধানীর বিভিন্ন থানা থেকে তদন্তের জন্য দুদক কার্যালয়ে পাঠানো জাল-জালিয়াতির অভিযোগের সংখ্যা গত দুই বছরে ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে কর্মকর্তাদের তথ্য।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: