ঢাকা   শুক্রবার ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৬ পৌষ ১৪৩২

বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিতে ইতিবাচক প্রবণতায় সপ্তাহ শেষ

বাজারে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিতে ইতিবাচক প্রবণতায় সপ্তাহ শেষ

সূচকের ওঠানামার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি, ২০২৬) ইতিবাচক প্রবণতায় সপ্তাহ শেষ করেছে দেশের শেয়ারবাজার। দিনের শুরুতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানের মাধ্যমে লেনদেন শুরু হয় এবং বেলা সোয়া ১১টার মধ্যেই প্রধান সূচক ৫ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে।

তবে বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে সূচক একটানা নিম্নমুখী হতে থাকে। পরবর্তীতে বাজারে আবারও ক্রেতা সক্রিয় হলে সূচক ঘুরে দাঁড়ায় এবং দিনশেষে ঊর্ধ্বমুখী রেখেই লেনদেন শেষ হয়।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সামনে বাজারের আরও উন্নতির প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি না করে ধরে রাখছেন। ফলে সূচক বাড়লেও টাকার অংকে লেনদেন কমেছে এবং দিনজুড়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর নিম্নমুখী থাকতে দেখা গেছে।

 ডিএসইর সার্বিক চিত্র

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৯৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে।

এদিন

শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০ দশমিক ৮০ পয়েন্টে,

এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৯১৪ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে।

ডিএসইতে এদিন মোট ৩৯১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে

১২৫টির শেয়ারের দর বেড়েছে,

১৮৩টির দর কমেছে,

এবং ৮৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

 লেনদেন পরিস্থিতি

বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট প্রায় ৪২৯ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৬৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৩৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

 সিএসইর চিত্র

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকার তুলনায় সামান্য কম।

আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৬৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে

৫৩টির দর বেড়েছে,

৮১টির দর কমেছে,

এবং ৩০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিনশেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২১ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৯৭ দশমিক ৩১ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসে এই সূচক ১০৭ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বেড়েছিল।


বিশ্লেষকদের মতে, সূচকের ওঠানামার মধ্যেও বাজারে যে স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের আস্থার জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে টেকসই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রাখতে লেনদেনের গতি বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন তারা।