সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড— এক সময় যাদের কাছে লভ্যাংশের ঝলক দেখিয়ে আস্থা অর্জন হয়েছিল, তারা এখন ঋণের ভারে চূর্ণ-বিচূর্ণ। ২০১৪ সালে তালিকাভুক্তির পর বোনাস শেয়ার আর নগদ লভ্যাংশ দিয়ে বিনিয়োগকারীদের মন জয় করা সাইফের মুনাফা ২০২১ সালে ছিল ৬২৬ মিলিয়ন, কিন্তু ২০২৪ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ২৬৫ মিলিয়নে। মাত্র তিন বছরে ৫৮ শতাংশ মুনাফা উধাও! কিন্তু প্রশ্ন, কেন?
শেয়ারপ্রতি আয়ও ঝুঁকিতে। ২০২১ সালে যেখানে ছিল ১.৭৫ টাকা, ২০২৪ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ০.৭০ টাকায়। আয় কমেছে, কিন্তু ঋণ বাড়ছে বিপর্যয়কর হারে। ২০২৪ সালের জুন শেষে কোম্পানির ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০,০০০ মিলিয়ন টাকা, যেখানে মূলধন মাত্র ৩,৭৯৩ মিলিয়ন টাকা। এটা কি ঋণের সুদ পরিশোধে মুনাফা খরচ হয়ে যাচ্ছে?
লভ্যাংশের চিত্রও ভয়াবহ— ২০২২ সালে ১০% নগদ লভ্যাংশ দেওয়া সাইফ এখন দিয়েছে মাত্র ১%। ২০২৩ সালে ছিল কোনো লভ্যাংশই নয়। এর প্রভাব বাজারে স্পষ্ট— গত বৃহস্পতিবার শেয়ারদর নেমে এসেছে ৬.৫০ টাকায়, এক বছর আগে যা ছিল ২৩ টাকা। সাইফ কি বাজার সংশোধনের শিকার, না কি এটি সংকটের বহিঃপ্রকাশ?
রিজার্ভও ঝুঁকিতে। কোম্পানির রিজার্ভে ৮ কোটি টাকার রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভ যোগ করা হয়েছে, যা কাগজে সম্পদের পরিমাণ বাড়ায়, তবে কোনো নগদ প্রবাহ সৃষ্টি করে না। এমন রিজার্ভে কেবল কাগুজে শক্তি; যখন নগদ লভ্যাংশ কমে আসে, তখন বিনিয়োগকারীরা নগদ প্রবাহ নিয়েই চিন্তিত।
বর্তমানে কোম্পানির ঋণ ২০,০০০ মিলিয়নের বেশি, এবং নগদ লভ্যাংশ মাত্র ১%। এর মধ্যে ৮ কোটি টাকার রিভ্যালুয়েশন রিজার্ভ নগদ প্রবাহ তৈরী না করায়, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ উত্থিত হচ্ছে— এই রিজার্ভ কি আসলেই শক্তি, না কেবল হিসাবের খেলা?
শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোও চাঞ্চল্যকর— ৪০% শেয়ার পরিচালকদের হাতে, আর ৪২% শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। অর্থাৎ, শেয়ার দরপতনে সবচেয়ে বড় ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে, যেখানে আর্থিক দুর্বলতার ইঙ্গিত স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, কোম্পানির মুনাফা কমছে, ঋণ বাড়ছে, লভ্যাংশ কমছে, আর শেয়ার দর পতনশীল— এটি কি সাময়িক চাপ, নাকি দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার লক্ষণ? বিনিয়োগকারীরা এখন উত্তরের অপেক্ষায়— সাইফের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে, এই গল্পের শেষটা পুনরুদ্ধারের, নাকি আরও গভীর সংকটের।
কোম্পানির সাথে যোগাযোগের চেষ্টায় সাইফ পাওয়ারটেকের কোম্পানি সেক্রেটারি এফ এমডি সালেহীনকে ফোন করা হলেও সাড়া মেলেনি। এসএমএস পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
























