ঢাকা   মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২

ডিভিডেন্ড বাবদ ৪৪৮ কোটি টাকা ভারতে পাঠাচ্ছে ম্যারিকো

ডিভিডেন্ড বাবদ ৪৪৮ কোটি টাকা ভারতে পাঠাচ্ছে ম্যারিকো

ঢাকা — গত অর্থবছরে মালিকপক্ষকে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা দেওয়ার পর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (এপ্রিল–ডিসেম্বর) ভারতীয় মূল প্রতিষ্ঠানের কাছে আরও ৪৪৮ কোটি টাকা ডিভিডেন্ড পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ম্যারিকো বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ভারতে এক হাজার কোটি টাকার বেশি ডিভিডেন্ড পাঠিয়েছিল, যা ছিল প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

কোম্পানির আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ম্যারিকো বাংলাদেশের ডিভিডেন্ড পেআউট রেশিও দাঁড়িয়েছে ৯৯.৬২ শতাংশ। অর্থাৎ অর্জিত মুনাফার প্রায় পুরোটাই ক্যাশ ডিভিডেন্ড হিসেবে বিতরণ করা হচ্ছে, কোম্পানির কাছে থাকছে এক শতাংশেরও কম মুনাফা।

 মুনাফা ও ডিভিডেন্ডের চিত্র

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ম্যারিকো বাংলাদেশের

নিট মুনাফা: ৪৯৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা

শেয়ার প্রতি আয় (EPS): ১৫৮ টাকা ৯ পয়সা

অডিট করা ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ের মুনাফার বিপরীতে কোম্পানিটি মোট ১,৫৭৫ শতাংশ অন্তর্বর্তীকালীন ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য শেয়ার প্রতি ৪৭৫ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে।

ম্যারিকো বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ভারতীয় ম্যারিকো লিমিটেড হওয়ায়, ঘোষিত এই বিপুল অংকের ডিভিডেন্ডের সিংহভাগই ভারতে চলে যাচ্ছে।

 আগের অর্থবছরের রেকর্ড

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ম্যারিকো বাংলাদেশ মোট

৩,৮৪০ শতাংশ ডিভিডেন্ড (শেয়ার প্রতি ৩৮৪ টাকা) দিয়েছে।

ওই বছরে মোট ১,২০৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ডিভিডেন্ডের মধ্যে ১,০৮৮ কোটি ১০ লাখ টাকা ভারতে পাঠানো হয়।

এবারও আগের বছরের ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটির রাজস্ব ও মুনাফায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।
 রাজস্ব বাড়লেও এনএভি কমেছে

ডিসেম্বরে শেষ হওয়া অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী,

কোম্পানিটির রাজস্ব ২৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৫৪৫ কোটি ১৬ লাখ টাকায়

নিট মুনাফা বেড়েছে ৮.৫৪ শতাংশ

ম্যারিকো বাংলাদেশ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) জানিয়েছে, রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনার ফলে শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ ডিভিডেন্ড ঘোষণার কারণে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদমূল্য (NAV) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ডিসেম্বর শেষে NAV: ৯২ টাকা ২২ পয়সা

গত মার্চে NAV ছিল: ২৩৯ টাকা ১৩ পয়সা


বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ম্যারিকো বাংলাদেশের এই ডিভিডেন্ড নীতির ফলে স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীরা নগদ সুবিধা পেলেও, দীর্ঘমেয়াদে কোম্পানির নিজস্ব মূলধন ও পুনঃবিনিয়োগ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবুও শক্তিশালী রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীল মুনাফা কোম্পানিটির ব্যবসায়িক ভিত্তিকে এখনো দৃঢ় রেখেছে।