শেয়ারবাজারে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে তালিকাভুক্ত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কোম্পানির পর্ষদ সভায় নারায়ণগঞ্জে জমি ক্রয় এবং 'তৃপ্তি ইন্ডাস্ট্রিজ' নামক একটি নতুন কোম্পানিতে উদ্যোক্তা শেয়ার কেনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। মঙ্গলবার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে এই তথ্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকাশ করা হয়।
ভবিষ্যৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা থেকে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ নারায়ণগঞ্জের মদনপুর মৌজায় ১৯.২৫ ডেসিমেল জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই জমির নির্ধারিত মূল্য ধরা হয়েছে ৫৭.৭৫ লাখ টাকা। জমি কেনার মূল দাম ছাড়াও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট, ট্যাক্স এবং রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ কোম্পানিটি নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে। মূলত নতুন অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যেই এই কৌশলগত বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
জমি ক্রয়ের পাশাপাশি অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ 'তৃপ্তি ইন্ডাস্ট্রিজ' নামক একটি নতুন প্রতিষ্ঠানে স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২ লাখ সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে এই বিনিয়োগ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের আগে তৃপ্তি ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি আলাদা কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছিল, যা পরবর্তীতে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের সাথে একীভূত হয়ে যায়। এখন পুনরায় সেই নামে নতুন কোম্পানি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত তৃপ্তি ইন্ডাস্ট্রিজের অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন হবে ৫০ লাখ টাকা। এই কোম্পানির ব্যবসার ধরণ সম্পর্কে অলিম্পিক জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর ব্যবসার সুনির্দিষ্ট খাত নির্ধারণ করা হবে। নতুন এই উদ্যোগটি আগামী অর্থবছরগুলোতে অলিম্পিকের সামগ্রিক মুনাফায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স ছিল বেশ ঈর্ষণীয়। এই সময়ে কোম্পানিটি ২,৭৭২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬.৯১ শতাংশ বেশি। নিট মুনাফাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০১ কোটি টাকায়, যেখানে আগের অর্থবছরে মুনাফা ছিল ১৮৩.৪০ কোটি টাকা। ভালো মুনাফার ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিটি তাদের বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করেছে।
























