শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে দুটি ক্রেডিট রেটিং কোম্পানিকে বড় অংকের জরিমানা করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—আরগাস ক্রেডিট রেটিং সার্ভিসেস লিমিটেড এবং ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড। ক্রেডিট রেটিং প্রক্রিয়ার বিধিনিষেধ অমান্য করায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসইসির ডিসেম্বর মাসের এনফোর্সমেন্ট রিপোর্টে এই শাস্তির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আরগাস ক্রেডিট রেটিং সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে অভিযোগটি তুলেছিল খোদ ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড। তাদের অভিযোগ ছিল, পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের (পিএমইউকে) সাথে ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল একটি রেটিং চুক্তি করেছিল ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, প্রাথমিক রেটিংয়ের পর পরবর্তী তিন বছর ওই প্রতিষ্ঠানের নজরদারি রেটিং করার দায়িত্ব ছিল তাদের। কিন্তু বিএসইসির আগাম অনুমতি না নিয়েই পিএমইউকে আরগাস ক্রেডিট রেটিংয়ের সাথে নতুন চুক্তি করে রেটিং সম্পন্ন করে, যা আইনত দণ্ডনীয়। বিএসইসির তদন্তে এই অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় আরগাসকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
মজার বিষয় হলো, ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড নিজেও অন্য একটি অনিয়মের দায়ে ফেঁসে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিল ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)। অভিযোগ অনুসারে, রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির রেটিং করার জন্য সিআরআইএসএল-এর সাথে একটি বিদ্যমান চুক্তি ছিল। কিন্তু সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে বিমা কোম্পানিটি ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিংয়ের কাছ থেকে নতুন করে রেটিং করিয়ে নেয়। বিএসইসি তদন্ত করে দেখেছে, ন্যাশনাল ক্রেডিট রেটিং জেনেশুনেই এই নিয়ম ভেঙে রেটিং প্রদান করেছে।
বিএসইসি সূত্র জানায়, ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি রুলস, ১৯৯৬ ভঙ্গ করায় এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এই ধরণের অনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ হওয়া জরুরি। নিয়ম ভঙ্গকারী এই কোম্পানিগুলোকে জরিমানার অর্থ দ্রুত ক্যাশ বা চেকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে বিএসইসি এমন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
























