ঢাকা   মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

বিসিআইসি চুক্তির ভরসা থাকলেও মুনাফায় ফিরতে পারল না মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ

বিসিআইসি চুক্তির ভরসা থাকলেও মুনাফায় ফিরতে পারল না মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) সঙ্গে বড় অঙ্কের সরবরাহ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেও লোকসান থেকে বের হতে পারেনি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে কোম্পানিটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। উৎপাদিত পণ্যের বিক্রয়মূল্য হ্রাস এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ ব্যয় মুনাফায় ফেরার পথে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

সংশোধিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩৮ পয়সা, যেখানে গত বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ৯৯ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লোকসানের চাপ আরও বেড়েছে।

তবে ইতিবাচক দিক হলো, কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো কিছুটা উন্নতি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এটি দাঁড়িয়েছে মাইনাস ১৩ পয়সা, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল মাইনাস ১ টাকা ৪৯ পয়সা

উল্লেখ্য, এর আগে প্রকাশিত প্রাথমিক ডিসক্লোজারে মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ শেয়ারপ্রতি ৬১ পয়সা লোকসান দেখালেও পরবর্তীতে আর্থিক প্রতিবেদন সংশোধন করে নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এদিকে, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিসিআইসির সঙ্গে একটি বড় ব্যবসায়িক চুক্তি করে কোম্পানিটি। চুক্তি অনুযায়ী, বিসিআইসির প্রয়োজনীয় ওভেন পলিপ্রোপিলিন ও পলিথিন ব্যাগের ৫০ শতাংশ সরবরাহ করার দায়িত্ব পায় মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ। তখন ধারণা করা হয়েছিল, এই আদেশ বাস্তবায়িত হলে কোম্পানিটির রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং মুনাফায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে সর্বশেষ আর্থিক ফলাফল বলছে, সেই প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন এখনো ব্যবসায় দেখা যায়নি।

১৯৯৫ সালে বিসিআইসি ও চারজন উদ্যোক্তার যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ মূলত সিমেন্ট, সার, লবণ, চিনি, খাদ্যশস্য ও বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য সংরক্ষণের ব্যাগ উৎপাদন করে। গাজীপুর ও শ্রীপুরে কোম্পানিটির দুটি উৎপাদন ইউনিট রয়েছে—একটি স্থানীয় বাজার এবং অন্যটি রপ্তানি বাজারের জন্য পণ্য উৎপাদন করে থাকে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিসিআইসি কোম্পানিটির প্রধান ক্রেতা হওয়া সত্ত্বেও উচ্চ উৎপাদন ব্যয়, ব্যাংক ঋণের চাপ এবং বাজারজাতকরণ–সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে বড় চুক্তি থাকলেও তা এখনো লাভজনক প্রবৃদ্ধিতে রূপ নিতে পারছে না।