ঢাকা   মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২

‘কমপ্লায়েন্স ও স্বচ্ছতা’ শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি

‘কমপ্লায়েন্স ও স্বচ্ছতা’ শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি

পোস্ট-আইপিও কমপ্লায়েন্সকে অনেক সময় কেবল আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে এটি একটি চলমান ও ধারাবাহিক দায়িত্ব, যার ওপর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি ও ধরে রাখা নির্ভর করে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিয়মিত কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করাই বিনিয়োগকারী সুরক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি—এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম

ডিএসই ট্রেনিং একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী “Continuing Listing Requirements Post IPO” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে রোববার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি ৪ থেকে ১২ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়।

ডিএসই পরিচালক বলেন, একটি আইপিও সফলভাবে সম্পন্ন হলেই কোম্পানির দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং প্রকৃত চ্যালেঞ্জ শুরু হয় আইপিও-পরবর্তী সময়ে। যখন একটি কোম্পানি নিয়মিত বাজার কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলে, তখনই দায়িত্বশীলতা ও কমপ্লায়েন্সের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ পর্যায়ে তথ্য প্রকাশ, স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ যত বেশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ও স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থাও তত বেশি সুদৃঢ় হবে। দীর্ঘমেয়াদে এই আস্থাই শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করবে, যার সুফল ভোগ করবে বাজারের সব অংশীজন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম এবং ডিএসই ট্রেনিং একাডেমির উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আল আমিন রহমান

তিন দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন সেশনে বক্তব্য দেন বিএসইসি পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম, এনাবিন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পরিচালক মাহমুদুর রহমান, এফসিএ, এবং ডিএসইর লিস্টিং অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ম্যানেজার স্নেহাশীষ চক্রবর্তী। বক্তারা কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড–২০১৮, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স–১৯৬৯, বিএসইসি (রাইটস ইস্যু) রুলস–২০০৬, রিভ্যালুয়েশন গাইডলাইনস, ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং সিস্টেম এবং লিস্টিং কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট–সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।