শরিয়াহভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১০ বছর মেয়াদি ‘ইজারা সুকুক’ বা ইসলামী বন্ড ইস্যু করছে সরকার। এই বন্ডের মাধ্যমে মোট ১০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে, যার অর্ধেক অর্থাৎ ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
সম্প্রতি সরকার নবগঠিত এই ব্যাংকটিকে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন সহায়তা প্রদান করেছে। এরই অংশ হিসেবে ওই অর্থের একটি বড় অংশ সুকুক বন্ডে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ।
এই বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যাংকটি বার্ষিক ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মুনাফা পাবে। রোববার (১১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ইতোমধ্যে আমানত বিমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারের কাছ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল পেয়েছে। এসব অর্থ থেকে বর্তমানে আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং স্থিতিশীল আয় নিশ্চিত করতে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি সুকুক বন্ডে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণা, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন আমানত সংগ্রহ শুরু হলে ব্যাংকটির তারল্য সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ–এর সভাপতিত্বে শরিয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটির সাম্প্রতিক দুটি সভায় এই সুকুক ইস্যুর বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন ও ঐকমত্য হয়েছে।
ইজারা পদ্ধতিতে গঠিত এই সুকুক বন্ডের অর্থ সরকারি কর্মচারীদের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্মিত সাতটি আবাসন প্রকল্প এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন সেবামূলক খাতে বিনিয়োগ করা হবে। ফলে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
























