ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

শেয়ারবাজারে আতঙ্ক: ৮ আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বন্ধের দাবি বিনিয়োগকারীদের

শেয়ারবাজারে আতঙ্ক: ৮ আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বন্ধের দাবি বিনিয়োগকারীদের

 শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৮টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়ন বা বন্ধ করার প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সংগঠনটি সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি প্রদান করেছে। স্মারকলিপিতে অবসায়ন প্রক্রিয়া বন্ধের পাশাপাশি একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দাবি জানানো হয়।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পরিষদের সভাপতি কাজী মো. নজরুল ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুল হক স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিটি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, সম্প্রতি যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে নতুন ‘সম্মিলিত ব্যাংক’ গঠন করেছে, সেই সব ব্যাংকের সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ফেসভ্যালু অনুযায়ী প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১০ টাকা হারে অর্থ প্রদান করতে হবে। অন্যথায়, নতুন গঠিত সম্মিলিত ব্যাংকের সমপরিমাণ শেয়ার বর্তমান শেয়ারহোল্ডারদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

স্মারকলিপি প্রদানের আগে সকালে মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পুরোনো ভবনের সামনে এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়ন করা হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের কষ্টার্জিত পুঁজি হারাবেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভুল নীতি বা অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কেন নেবে—এমন প্রশ্ন তুলে তারা এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি সরফরাজ হোসেন, আজাদ আহসান বাচ্চু, সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন এবং অর্থ সম্পাদক মো. সাজ্জাদুর রহমান। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার সংকটে থাকা বাজারে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, তারা কেবল স্মারকলিপি দিয়েই শান্ত থাকবেন না; যদি তাদের দাবিগুলো অনতিবিলম্বে মেনে নেওয়া না হয়, তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। মূলত শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের পথে বসা থেকে রক্ষা করতেই তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।