শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলো এখন শুধু আর্থিক দুর্বলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভবিষ্যৎ টিকে থাকা ও ব্যবসার ধারাবাহিকতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরকারি ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) মেয়াদ শেষ হওয়া, নতুন চুক্তির অনিশ্চয়তা, উৎপাদন বন্ধ থাকা, আদায় অযোগ্য পাওনা এবং সম্পদের অতিমূল্যায়নের কারণে এই খাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক ও পরিচালনাগত পরিস্থিতি সংকটজনক। সাম্প্রতিক নিরীক্ষা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ১১টি কোম্পানির মধ্যে অন্তত পাঁচটির ‘গোয়িং কনসার্ন’ ঝুঁকি স্পষ্ট।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমছে
শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি জানিয়েছে, আর্থিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে। তাই কোম্পানিগুলোকে সঠিক তথ্য প্রকাশ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ক্রয় চুক্তি ছাড়া বিনিয়োগ টেকসই নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আল-আমিন ও সিপিডির ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক প্ল্যান্টের উচ্চ ব্যয় এবং জ্বালানি সংকটের কারণে পিপিএ শেষ হওয়া কেন্দ্রগুলো চালু রাখা প্রায় অসম্ভব, যা কোম্পানিগুলোকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
কোম্পানিভিত্তিক ঝুঁকি
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি
বৈদেশিক ঋণের বিপরীতে ৪,৭১৫ কোটি টাকার বিনিময়জনিত ক্ষতি মূলধনে যুক্ত
২৭,৪৩৬ কোটি টাকার সম্পদ পরীক্ষা ছাড়া দেখানো
গত দুই অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৮ ও ৫ টাকার বেশি লোকসান
বর্তমানে জেড ক্যাটাগরিতে
কোম্পানি জানিয়েছে, ভেন্ডর চুক্তি সমস্যা ও সুদ ব্যয়ের সমন্বয় প্রক্রিয়াধীন
ডেসকো
৫৬০ কোটি টাকার পাওনার মধ্যে ৩১১ কোটি অযোগ্য
২৬৩ কোটি টাকার বকেয়া নিয়ে মামলা চলায় প্রভিশন যথেষ্ট নয়
বাতিল সাবস্টেশন প্রকল্প এখনও সম্পদ হিসেবে দেখানো
২০২৩ ও ২০২৪ সালে কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি
বারাকা পাওয়ার
১৫৫ কোটি টাকার জামানতহীন ঋণ
ফেঞ্চুগঞ্জ কেন্দ্র চুক্তি শেষে বন্ধ
সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ হয়নি
খুলনা পাওয়ার
দুটি ইউনিটের পিপিএ ২০২৪ সালে শেষ
টানা পাঁচ বছরের লোকসানের কারণে জেড ক্যাটাগরিতে
সম্পদের মূল্যহ্রাসের ঝুঁকি
ডরিন পাওয়ার
তিনটি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ আয় অনিশ্চিত
গ্র্যাচুইটি ও দেনা-পাওনার হিসাব অস্পষ্ট
ড. ফাহমিদা খাতুন, নির্বাহী পরিচালক, সিপিডি:
"সরকারি ক্রয় চুক্তির অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অভাব বিদ্যুৎ খাতকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পিপিএ নবায়ন এবং বাজারমুখী টেকসই উদ্যোগ ছাড়া উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষা সম্ভব নয়। এটি হলে কোম্পানিগুলো টেকসই হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে।"
























