দীর্ঘদিনের স্থবিরতার পর ২০২৬ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এক শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামষ্টিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এ অগ্রযাত্রায় মূল ভূমিকা রাখবে।
২০২৫: চ্যালেঞ্জের বছর
গত বছর ছিল পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনীতির দৌড়প্রকৃতির পরিবর্তন এবং নানা নীতিগত পদক্ষেপে বছরটি শেষ হয়েছে।
হংকংভিত্তিক গ্লোবাল ফান্ড ম্যানেজার ‘এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটাল’ (এএফসি) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কয়েকটি কঠিন বছর পার করার পর ২০২৬ সালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে নতুন মোড় নেবে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা + অর্থনৈতিক শিথিলতা = বাজারে ইতিবাচক সংকেত
-
নির্বাচনের পর স্থিতিশীলতা ফিরলে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
-
মূল্যস্ফীতি কমে আসার সম্ভাবনা থাকায় সুদের হারও কমবে, যা পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।
-
স্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজ ইবিএল সিকিউরিটিজ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি মুদ্রানীতি শিথিল করে, তবে তারল্য সংকট দূর হবে, যা বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ও কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
শেয়ারদরের পরিস্থিতি
বর্তমানে বাংলাদেশের শেয়ারগুলো ঐতিহাসিকভাবে আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। অনেক ব্লু-চিপ এবং বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার গড় মূল্যের চেয়ে অনেক নিচে নেমেছে। ২০২৫ সালের শেষে বাজারের সার্বিক মূল্য-আয় অনুপাত মাত্র ৮.৬, যা আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী।
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
ব্র্যাক ইবিএল স্টক ব্রোকারেজের গবেষণা প্রধান সেলিম আফজাল শাওন বলেন,
“২০২৫ সালে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সংস্কারের কারণে বাজার প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি। তবে ২০২৬ সালে কেবল সামষ্টিক অর্থনীতির উন্নতি যথেষ্ট নয়। বাজারকে টেকসই করতে নতুন ভালো মানের শেয়ার এবং উন্নত বাজার কাঠামো প্রয়োজন। ব্যাংক খাতের দুর্বলতার কারণে ব্যবসায়ীদের অর্থায়নের বাড়তি চাহিদা পুঁজিবাজার পূরণ করতে পারবে, যদি সঠিক অবকাঠামো নিশ্চিত হয়।”
নতুন আইপিও-র সম্ভাবনা
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পাবলিক ইস্যু রুলস বা আইপিও বিধিমালা সংশোধনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে এনেছে। বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, সংশোধিত বিধিমালা অনুমোদিত হলে শক্তিশালী ট্র্যাক রেকর্ড থাকা কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ার বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
























