শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফার্মা ও রসায়ন খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান একমি ল্যাবরেটরিজ সাম্প্রতিক সময়ে মুনাফা ও পরিচালন নগদ প্রবাহে (ক্যাশ ফ্লো) শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে আবারও নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের ইতিবাচক প্রভাব কোম্পানিটির আর্থিক সূচকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
প্রান্তিক মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে প্রকাশিত সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৫ প্রান্তিকে একমি ল্যাবরেটরিজের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৮৬ পয়সা। অর্থাৎ এক প্রান্তিকেই কোম্পানিটি উল্লেখযোগ্য মুনাফা প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
প্রথমার্ধে আয় ও নগদ প্রবাহে বড় অগ্রগতি
চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৫) কোম্পানিটির মোট ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ১১ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা।
মুনাফার পাশাপাশি পরিচালন নগদ প্রবাহেও বড় ধরনের উন্নতি দেখা গেছে। এই ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ১৬ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৬ টাকা ৮৫ পয়সা (রিস্টেটেড)। নগদ প্রবাহের এই শক্ত অবস্থান কোম্পানির ব্যবসায়িক দক্ষতা ও কার্যক্রমের স্থিতিশীলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
প্রথম প্রান্তিকেও ধারাবাহিক উন্নতি
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই–সেপ্টেম্বর ২০২৫)-এও কোম্পানিটির পারফরম্যান্স ছিল ইতিবাচক। এই সময়ে একমির ইপিএস দাঁড়িয়েছিল ৩ টাকা ০১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৬১ পয়সা।
একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো বেড়ে দাঁড়ায় ৭ টাকা ০৭ পয়সায়, যেখানে আগের বছর ছিল ৬ টাকা ৪৪ পয়সা। অর্থাৎ পুরো বছরজুড়েই কোম্পানির মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সম্পদভিত্তিক অবস্থান আরও শক্ত
সম্পদের দিক থেকেও একমি ল্যাবরেটরিজের অবস্থান উন্নত হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ১২৮ টাকা ৯৭ পয়সা, যা ৩০ জুন ২০২৫ শেষে ছিল ১২৬ টাকা ৩৭ পয়সা। সম্পদের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিভিডেন্ডে ধারাবাহিকতার ইতিবাচক বার্তা
ডিভিডেন্ড প্রদানের ক্ষেত্রেও একমি ল্যাবরেটরিজের রয়েছে প্রশংসনীয় ইতিহাস।
-
২০২১: ২৫ শতাংশ
-
২০২২: ৩০ শতাংশ
-
২০২৩: ৩৩ শতাংশ
-
২০২৪: ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড
সর্বশেষ ৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্যও ৩৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। যদিও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ২০২৫ সালে ইপিএস সামান্য কমে ১১ টাকা ৪৮ পয়সা হয়েছে (২০২৪ সালে ছিল ১১ টাকা ৬১ পয়সা), তবুও ডিভিডেন্ডের ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের জন্য ছিল বড় স্বস্তির বার্তা।
























