Nahee Aluminum
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

ব্রিজ মেরামতে মন্থরগতি

১৭ জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন


১৪ নভেম্বর ২০১৬ সোমবার, ০৯:২৯  পিএম

এমএ ওয়াদুদ মিয়া, শরীয়তপুর

শেয়ার বিজনেস24.কম


১৭ জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

কাজের ধীর গতির কারণে ১৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বালার বাজারে ভেঙ্গে পড়া বেইলি সেতুর মেরামতের কাজ। ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৭ জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

ভুল তথ্য দিয়ে চাঁদপুরের হরিনা ফেরী ঘাটের কর্তৃপক্ষ শত শত পণ্যবাহী ট্রাক পাড় করায় মহাসড়কের শরীয়তপুর অংশে আটকা পড়েছে চার শতাধিক ট্রাক। শরীয়তপুর সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষও বলতে পারছে না, ঠিক কবে নাগাদ সচল হবে এ গুরুত্বপূর্ণ সেতু।

এদিকে ভেঙ্গে পড়া সেতুটি মেরামতে বিলম্ব হওয়ায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী ফেরীর মাধ্যমে প্রতিদিন ৫ লক্ষাধিক টাকা লোকসান হচ্ছে বলে ফেরী সড়িয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে পণ্যবাহী একটি ট্রাক শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কের বালার বাজার বেইলি সেতু ভেঙ্গে নদীতে পরে যায় । ট্রাকটি লোহার রড বোঝাই করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বরিশালের মঠবাড়িয়া যাচ্ছিল। ফলে শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরী সার্ভিস বন্ধ হয়ে চট্টগ্রাম-মংলা ও ভোমরা বন্দর এবং সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে খুলনা, বরিশাল ও বৃহত্তর ফরিদপুরের ১৭টি জেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনার ২ দিন পরে ব্রিজ মেরামতের কাজ শুরু করে শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অত্যন্ত ধীর গতিতে মেরামতের কাজ চলায় সেতু মেরামতের দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হচ্ছে না।

২৮ অক্টোবর রাতে সেতু ভেঙ্গে যাওয়ার পরেও ১ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চাঁদপুরের হরিনা ফেরী ঘাট থেকে কয়েক শত পণ্য বোঝাই ট্রাক পাড় করেছে ফেরী কর্তৃপক্ষ। ফেরী পাড় হয়ে মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ে এসে নরসিংহপুর ফেরী ঘাট থেকে বালার বাজার পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে অন্তত ৪ শত ট্রাক আটকা রয়েছে। প্রতিটি ট্রাকেই পণ্য বোঝাই করা। এ ট্রাকগুলোর ৭ শতাধিক চালক ও হেল্পার অত্যন্ত নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছে।  

ট্রাক চালক শেখ রফিকুল ইসলাম, আকতার হোসেন শরীফ, মোঃ কাজল মিয়া, আবুল কালাম এবং জামাল হোসেন বলেন, আমরা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চল থেকে পিরোজপুর, বরিশাল, ভোমরা বন্দর ও মংলা বন্দরে যাওয়ার জন্য হরিনা ফেরিঘাটে আসি। ফেরী কর্তৃপক্ষ ২-৩ দিনের মধ্যে বালার বাজার সেতু মেরামত হয়ে যাওয়ার মিথ্যা তথ্য দিয়ে পাড় করে দেয়। এখন এপাড়ে এসে দেখি সেতু মেরামতের যে ধীর গতি তাতে এক মাসেও সেতুটি সচল হবে বলে মনে হচ্ছে না। এখন আমরা পড়েছি মহাসমস্যায়।  

এদিকে বেইলি সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় এলাকার হাজার হাজার লোক প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পাড়াপাড় হচ্ছে ছোট নৌকায়। তাতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

১ নভেম্বর শুরু হওয়া জেএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী আবিদ, লায়মা এবং ইলিন জাহান বলেন, আগে আমরা খুব সহজেই ব্রিজের উপর দিয়ে পাড় হতাম। এখন ব্রিজ না থাকায় আমাদের নৌকায় করে যেতে হচ্ছে। এতে আমাদের সময় বেশি লাগছে। পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও সমস্যা হচ্ছে। আমরা চাই অতি তাড়াতাড়ি ব্রিজটি চালু করা হোক।

চাঁদপুর ফেরী ঘাট কর্তৃপক্ষ ভুল তথ্য দেওয়ায় শত শত চালক ও হেলপার ভোগান্তিতে পড়ায় এর দায়ভার বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষকে বহনের দাবি জানিয়েছেন নরসিংহপুর ফেরী ঘাট শাখা ট্রাক-কভার ভ্যান ড্রাইভার সমিতির সাধারণ সম্পাদক হরলাল মৈসাল।

চরসেন্সাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যার মোঃ জিতু মিয়া বেপারী বলেন, বালার বাজার বেইলি ব্রিজটি আমার বাড়ির কাছে অবস্থিত। ২০০১ সালে ঢাকা শহরের যানজট কমানোর জন্য সরকার চট্টগ্রাম থেকে মংলা ও ভোমরা বন্দর এবং সিলেট-চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে খুলনা-রবিশাল বিভাগের সাথে সড়ক পথে দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য চাঁদপুর-শরীয়তপুর ফেরি সার্ভিস চালু করে। ফলে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারি পরিবর্তন আসে। এ ফেরী সার্ভিসের আওতায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কে এরকম ১০ বেইলি ব্রিজ রয়েছে। ২৮ অক্টোবর বালার বাজার ব্রিজটি ভেঙ্গে পড়ার পরে এ রুটে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়ক বিভাগ যে ধীর গতিতে কাজ করছে তাতে এক মাসেও ব্রিজটি সচল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।

সেতু মেরামতে ধীর গতির কারণে আগামী এক মাসেও এ সেতুটি সচল হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন নরসিংহপুর ফেরিঘাট ম্যানেজার মোঃ আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, প্রতিদিন দুই পাড়ের ফেরীতে ৫ লক্ষাধিক টাকা লোকসান হওয়ায় চাঁদপুর-শরীয়তপুর রুটের ফেরী স্থানান্তর করে আরিচা ও শিমুলিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। আমরা এই রুটের ফেরী চলাচল আপাতত বন্ধ রেখেছি।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ বলেন, আমরা ৩০ জন শ্রমিক দিয়ে সেতুর ভাঙ্গা অংশটুকু অপসারণের জন্য কাজ করছি। এ কাজ শেষ হলে নতুন বেইলি এনে সেতু সচল করা হবে। তবে এতে ঠিক কত দিন সময় লাগবে তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। আমরা সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যেই সেতু চলাচলের উপযোগী করে তোলার জন্য সচেষ্ট রয়েছি।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: