Sahre Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

শেয়ার কারসাজিতে ব্যবহার হয় ব্লগ


১৮ আগস্ট ২০১৫ মঙ্গলবার, ০৬:১৫  পিএম


শেয়ার কারসাজিতে ব্যবহার হয় ব্লগ

শেয়ারবিজনেস প্রতিবেদক : শেয়ারবাজারে ২০১০ সালের সৃষ্ট ধ্বসের দায়ে দণ্ডিতরা পত্রিকা ও ব্লগে লেখালেখিসহ অভিনব আরও কয়েকটি উপায়ে বিভিন্ন শেয়ারের দাম বাড়িয়েছিলেন। শেয়ারবাজারের বিশেষ ট্রাইবুন্যালে দণ্ড পাওয়াদের সাজার পর বেরিয়ে এসেছে এ সব চাঞ্চল্যকর তথ্য। মামলা এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, দণ্ড পাওয়া আসামিরা বিভিন্নভাবে শেয়ার দরে কৃত্রিম প্রভাব ফেলেন। কখনো নিজেদের পত্রিকায় লিখে, কখনো বা ব্লগে কোম্পানি ভবিষ্যতে ভালো করবে এমন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেন তারা। ফলে হু হু করে বেড়ে যায় শেয়ারের দর। এ ছাড়া নিজেদের মধ্যে শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে দর বাড়ানো ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমেও মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে এই কারসাজি করেন তারা। এ সব অপরাধে ১৭ আগস্ট বাংলাদেশ ওয়েলডিং ইলেকট্রোডের (বিডি ওয়েলডিং) কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম নুরুল ইসলাম ও ‘ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি’ পত্রিকার সম্পাদক এনায়েত করিমকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেন শেয়ারবাজার বিষয়ক স্পেশাল আদালত। একইসঙ্গে উভয়কে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে ৩ আগস্ট ফেসবুকসহ ছয়টি ওয়েব পোর্টালে শেয়ার কেনা-বেচার আগাম মিথ্যা তথ্য প্রচারকারী মাহাবুব সারোয়ারকে ২ বছর কারাদণ্ড দেন পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, শেয়ার কারসাজিতে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনায় পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে কারসাজির পরিমাণ কমে আসবে বলে মনে করি। তদন্তে আরও জানা যায়, বিডি ওয়েল্ডিং ও ‘ডেইলি ইন্ডাস্ট্রির’ আসামিরা উদ্দেশমূলকভাবে স্বার্থ হাসিলের জন্য পত্রিকায় মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রকাশ করেন। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং এর শেয়ার দর কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে তারা স্বার্থ হাসিল করেন। সৌদির আল-আওলাদ গ্রুপ বিডি ওয়েল্ডিংএ বিনিয়োগ করবে বলে তথ্য প্রকাশ করেন আসামিরা। আর এ বিনিয়োগের বিষয়ে গ্রুপটির সঙ্গে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে বলে তথ্য ছড়িয়ে দেয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এই খবরে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে ৬.৯০ টাকায় অবস্থান করা বিডি ওয়েল্ডিং এর শেয়ার মার্চ মাসে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ৪২.৫০ টাকায় উন্নীত হয়। এ হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩ মাসে বাড়ে প্রায় ৬১৫.৯৪ শতাংশ। আর আসামিরা খবর প্রচারের আগে স্বার্থ হাসিলের জন্য ৬ টাকা করে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫শ’টি শেয়ার ক্রয় করেন। যার মধ্য থেকে ২০ হাজার ৫শ’টি শেয়ার ৩৩-৩৪ টাকা করে ও ১ লাখ ৭২ হাজার শেয়ার ৪৬ টাকা করে বিক্রয় করে অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জন করেন। ২০০৭ সালের ৬ মার্চ বিএসইসি শেয়ারটির দর অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ তদন্তে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। তদন্তে সৌদিতে আল-আওলাদ গ্রুপ নামে কোনো কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া আসামিরা যোগসাজশ করে নিজেদের মধ্যে ই-মেইল আদান-প্রদান করে সৌদির আল-আওলাদ গ্রুপের নাম প্রচার করেন বলে তথ্য উঠে আসে। মাহাবুব সারোয়ার : আসামি শেয়ারবাজারের বিভিন্ন কোম্পানির আগাম বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ফেসবুকসহ অন্যান্য ওয়েব পোর্টালে প্রচার করেছেন। এ সব খবরের মধ্যে রয়েছে- কোন কোম্পানির শেয়ার দর কত বাড়বে, কোনটির দর কত কমবে, কোন কোম্পানি ব্যবসায় ভাল করবে ইত্যাদি খবর অগ্রিম প্রকাশ করতেন। এ সব খবরে প্রলুব্ধ হয়ে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করেন। কিন্তু পরে ওই মিথ্যা খবরে ক্ষতির কবলে পড়তে হয় বিনিয়োগকারীদের। এদিকে খবর ছড়িয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের আগে মাহবুব সারোয়ার নিজে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে নিতেন। কোন কোম্পানির শেয়ার দর বাড়বে খবর প্রকাশের আগে নিজে ওই শেয়ার কিনে নিতেন। আর খবর প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা ওই শেয়ার ক্রয়ে ঝুঁকে পড়লে মাহবুব সারোয়ার তা বিক্রয় করে মুনাফা অর্জন করতেন। এ ছাড়া তিনি এ সব খবর প্রকাশের মাধ্যমে ফি নিতেন বলেও অভিযোগ আছে। মাহবুব সারোয়ার তথ্য প্রকাশের জন্য ২০০৭ সালের মার্চ থেকে ২০১০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ফেসবুকসহ ছয়টি ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করেন। যার মধ্যে রয়েছে — সৈকতস ব্লগ, মাহাবুব সারোয়ার, সৈকত সৈকত, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিএসই-এক্সুসিভ ব্লগ ও ফেসবুক। ওই সময় মাহাবুব সারোয়ারের এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন— বর্তমানে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম, পরিচালক রাজিব আহমেদ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক চিফ টেকনিক্যাল অফিসার (সিটিও) এটিএম খায়রুজ্জামান।  

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: