ঢাকা   বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২

কোয়েস্ট কেলেঙ্কারি: ৬৮ কোটি বিনিয়োগে তদন্তে বিএসইসি

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৭, ২৬ মার্চ ২০২৬

সর্বশেষ

কোয়েস্ট কেলেঙ্কারি: ৬৮ কোটি বিনিয়োগে তদন্তে বিএসইসি

পুঁজিবাজারের ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কোয়েস্ট বিডিসি পিএলসিতে নিয়ম ভেঙে ৬৮ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের এই বিনিয়োগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কর্মকর্তারা কোনো অনিয়মে জড়িত ছিলেন কি-না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সম্প্রতি বিএসইসির প্রশাসন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—বিএসইসির চিফ একাউন্ট্যান্ট কামরুল আনাম খান, অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং উপ-পরিচালক মো. রফিকুন্নবী।

এর আগে, নিয়ম ভেঙে ৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে কোয়েস্ট বিডিসিতে বিনিয়োগ করায় ৬ ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠানকে ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা জরিমানা করে বিএসইসি। একইসঙ্গে বিনিয়োগের আড়ালে সম্ভাব্য মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুদকের কাছেও সব তথ্য পাঠানো হয়েছে।

বিএসইসির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধান কমিটির দাখিল করা প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে কোয়েস্ট বিডিসির অনুমোদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৎকালীন এসআরএমআইসি ও সিআই বিভাগের কর্মকর্তারা কোনো অনিয়মে জড়িত ছিলেন কি-না তা চিহ্নিত করতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, মূল বোর্ড থেকে তালিকাচ্যুত পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালার লিমিটেড নাম পরিবর্তন করে কোয়েস্ট বিডিসি রাখা হয়। পরবর্তীতে এই বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া হয়, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে তদন্ত কমিটি।

জানা গেছে, এলআর গ্লোবাল তাদের ৬টি ফান্ড থেকে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে, যা বিধিমালা লঙ্ঘন করে করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিএসইসির ৯৭৮তম কমিশন সভায় জরিমানার পাশাপাশি সুদসহ প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এছাড়া, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকায় বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, এলআর গ্লোবালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক ও অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও জানা যায়, কোয়েস্ট বিডিসি থেকে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা খায়রো কেয়ারে স্থানান্তর করা হয়, যা মানিলন্ডারিংয়ের শঙ্কা হিসেবে বিবেচনা করে দুদকে তথ্য পাঠানো হয়েছে।

মূলত এলআর গ্লোবাল পদ্মা প্রিন্টার্সের ৫১ শতাংশ শেয়ার কিনে কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে এবং প্রথম দফায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে। তবে এ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বা কমিশনের অনুমোদন নেওয়া হয়নি, যা মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার পরিপন্থি। এছাড়া, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ১৫.৮৮ টাকা এবং কিছু ক্ষেত্রে ২৮৯.৪৮ টাকায় কেনা হয়েছে, যা ছিল অস্বাভাবিক।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, “এ ধরনের অনিয়মে জড়িত নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা হলেও ফিরে আসবে।”

সর্বশেষ