আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল–এর মধ্যে চলমান হামলা-পাল্টা হামলার প্রভাব এবার সরাসরি এসে পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। টানা উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বেড়েছে আতঙ্ক—আর তারই প্রতিফলন দেখা গেছে শেয়ারবাজারে বড় পতনে।
আগের কার্যদিবসে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে সূচকে নেমেছে তীব্র ধস। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০৮.৯৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,৩২৫.০৬ পয়েন্টে—যা গত ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ১০ ফেব্রুয়ারি সূচক ছিল ৫,৩৯৯.৯৫ পয়েন্টে।
এদিন আরও দুই সূচকেও বড় পতন দেখা গেছে।
ডিএসইএস সূচক ৩৬.৩৪ পয়েন্ট কমে ১,০৬৩.৩৭ পয়েন্টে
ডিএসই-৩০ সূচক ৮৫.৭২ পয়েন্ট কমে ২,০৫০.১২ পয়েন্টে নেমে এসেছে
অধিকাংশ শেয়ারে দরপতন
ডিএসইতে মোট ৩৯১টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৩১টির, বিপরীতে কমেছে ৩৪৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির শেয়ারদর। অর্থাৎ বাজারজুড়ে ছিল ব্যাপক বিক্রিচাপ।
লেনদেন বেড়েছে
পতনের দিনেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে প্রায় ৮৮৫ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৭৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ১০৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা বেশি।
সিএসইতেও একই চিত্র
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এ মোট ২৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি।
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৪টির, কমেছে ১৫৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩টির। এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪২৭.৫০ পয়েন্ট কমে ১৫,০৭২.৫৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, আগের কার্যদিবসে সূচকটি ৭৬.৬৮ পয়েন্ট বেড়েছিল।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনা প্রশমিত হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তারা বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতার সঙ্গে লেনদেনের পরামর্শ দিয়েছেন।
























