ঢাকা   বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

শেয়ারবাজার থেকে ২৭০ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৪৬, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শেয়ারবাজার থেকে ২৭০ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার

২০২৫ সালে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল প্রত্যাশার তুলনায় কম। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা, বাজারের অস্থিরতা এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এর নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার কারণে গত এক বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ২৭০ কোটি টাকা বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মোট ২ হাজার ৯৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। বিপরীতে তাদের মোট ক্রয় ছিল ১ হাজার ৮২৫ কোটি ০৭ লাখ টাকা—ফলে নিট হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে।

 ২০২৫ জুড়ে সতর্ক বিদেশিরা

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৫ সালজুড়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ছিলেন অত্যন্ত রক্ষণশীল। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনের লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিদেশি লেনদেন প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত একটি ব্রোকারেজ হাউজের শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরতে শুরু করেছে। বর্তমানে তারা মৌলভিত্তি শক্তিশালী শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে চলতি মাসেই বিদেশি নিট বিনিয়োগ ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 বাজারে সুযোগ থাকলেও চ্যালেঞ্জ বড়

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয় এবং মানসম্পন্ন শেয়ারের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, তবে বিদেশি তহবিলের প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। তারা জানান, বর্তমানে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী ইমার্জিং ও ফ্রন্টিয়ার মার্কেটের দিকে ঝুঁকছেন, যা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে তারা এটাও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে গঠিত নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর সংস্কারমূলক উদ্যোগ এবং কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব পড়ে আইপিও বাজারেও—নতুন তহবিল সংগ্রহের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

 আট বছরে সাত বছরই বিদেশি বিনিয়োগ নেতিবাচক

শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান বলছে, গত আট বছরের মধ্যে সাত বছরই বিদেশি নিট বিনিয়োগ ছিল নেতিবাচক। কেবলমাত্র ২০২৩ সালে ৬৪ কোটি টাকার নিট ইতিবাচক বিনিয়োগ দেখা গিয়েছিল।
২০২৫ সালে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিদেশিরা শেয়ার ক্রয়ে তুলনামূলক সক্রিয় থাকলেও, বছরের শেষ ভাগে তারা বড় অঙ্কের শেয়ার বিক্রি করে মূলধন প্রত্যাহার করেন।


বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের শেয়ারবাজারে ভালো ও মানসম্পন্ন শেয়ারের তীব্র সংকট রয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এবং বাজারে গতি আনতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।

তারা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এ বিষয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে কোনো সরকারি কোম্পানি বাজারে আসেনি। তাই নতুন সরকারের কাছ থেকে আরও দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা, যাতে শেয়ারবাজারে দেশি-বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার করা যায়।