টানা চার কার্যদিবসের ধারাবাহিক দরপতনের মধ্য দিয়ে আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সপ্তাহের লেনদেন শেষ হয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। সপ্তাহের শুরুতে রেকর্ড উত্থানের কারণে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল—সপ্তাহজুড়েই বাজারে আরও নতুন রেকর্ড তৈরি হবে। তবে সেই প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত হতাশায় রূপ নেয়।
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৫৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬৬ পয়েন্টে। এই সূচক পতনে নেতৃত্ব দিয়েছে ১০টি বড় কোম্পানি। লঙ্কাবাংলা অ্যানালাইসিস পোর্টাল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূচক পতনে শীর্ষ ১০ কোম্পানি
সূচক কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে—
ন্যাশনাল ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বিএটিবিসি, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, আইএফআইসি ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, এসিআই লিমিটেড, রবি আজিয়াটা, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক।
এই ১০ কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ডিএসইএক্স সূচক থেকে প্রায় ২০ পয়েন্ট কমিয়েছে।
শীর্ষ তিন কোম্পানির প্রভাব
সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট কমিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ব্যাংকটি একাই ডিএসইএক্স সূচক থেকে ৫ পয়েন্টের বেশি মাইনাস করেছে। এদিন ব্যাংকটির শেয়ারদর ৫০ পয়সা বা ৮ দশমিক ৬২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৩০ পয়সায়। দিনের লেনদেনে শেয়ারটির দর ৫ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৫ টাকা ৮০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। দিনশেষে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটি সূচক থেকে প্রায় ৩ পয়েন্ট কমিয়েছে। এদিন শেয়ারদর ১ টাকা ৪০ পয়সা বা ০ দশমিক ৬১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২২৭ টাকা ৯০ পয়সায়। শেয়ারটির দর ২২৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২২৯ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে লেনদেন হয়। দিনশেষে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৯ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
তৃতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট কমিয়েছে বিএটিবিসি। কোম্পানিটি সূচক থেকে ২ পয়েন্টের বেশি মাইনাস করেছে। এদিন শেয়ারদর ৪ টাকা ২০ পয়সা বা ১ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৭৪ টাকা ৬০ পয়সায়। দিনের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল ২৭৪ টাকা এবং ২৮০ টাকা। লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার।
অন্যান্য কোম্পানির অবদান
এছাড়া ওয়ালটন হাইটেক ও আইএফআইসি ব্যাংক প্রায় ২ পয়েন্ট করে, লাফার্জহোলসিম ১ পয়েন্টের বেশি, এসিআই, রবি আজিয়াটা, বিকন ফার্মা ও প্রিমিয়ার ব্যাংক প্রায় ১ পয়েন্ট করে সূচক কমিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে দ্রুত উত্থানের পর এই দরপতন একটি স্বাভাবিক সংশোধন হিসেবেই দেখা যেতে পারে। স্বল্পমেয়াদি এই চাপ কাটিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে সময় লাগতে পারে বলে মত দিয়েছেন তারা।
























