ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

অপ্রত্যাশিত নিম্নমুখীতায় সপ্তাহ শেষ

অপ্রত্যাশিত নিম্নমুখীতায় সপ্তাহ শেষ

অপ্রত্যাশিত দরপতনের মধ্য দিয়ে আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সপ্তাহের লেনদেন শেষ করেছে দেশের শেয়ারবাজার। টানা চার কার্যদিবস সূচক নিম্নমুখী থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা বিস্ময় ও দ্বিধা তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারে সূচক ও লেনদেন আরও শক্তিশালী হবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

তবে বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এ অবস্থায় হতাশ বা আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তারা বলছেন, সাম্প্রতিক পতনের গতি খুব বেশি তীব্র নয় এবং এটি একটি স্বাভাবিক সংশোধন হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি গতিশীল হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে কারণে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরে সতর্ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

ডিএসইতে সূচক ও লেনদেন—দুটোই নিম্নমুখী

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর ছিল নিম্নমুখী।

বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ দশমিক ২০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬৫ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১০ দশমিক ১৮ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে নেমেছে ১ হাজার ৯৫ দশমিক ০৯ পয়েন্টে। আর ব্লু-চিপ সূচক ডিএসই-৩০ কমেছে ১২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ২ হাজার ৯৭ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৪৬টির দর বেড়েছে, ৩১৩টির কমেছে এবং ৩৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

লেনদেনে বড় ধস

লেনদেনের অঙ্কে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল প্রায় ৯৩৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। একদিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৩৮১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

সিএসইতেও একই চিত্র

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এদিন সিএসইতে শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি ৮ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

সিএসইতে মোট ২৮২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৪৩টির দর বেড়েছে, ১২০টির কমেছে এবং ১৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৭৩ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫১৬ দশমিক ৯৫ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসেও সূচকটি ৮৫ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংশোধনী প্রবণতা সাময়িক হতে পারে। নীতিগত স্থিতিশীলতা ও আস্থার পরিবেশ ফিরে এলে বাজারে আবারও ইতিবাচক ধারা দেখা যেতে পারে। তাই স্বল্পমেয়াদি ওঠানামার বদলে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।