শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে মিশ্র হলেও সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে। বহুজাতিক রং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টস এবং দেশীয় জুতা প্রস্তুতকারক এপেক্স ফুটওয়্যার—দুটি কোম্পানিই তাদের সাম্প্রতিক হিসাব মেয়াদে ব্যবসা ও মুনাফা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। তবে ব্যবসার প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি খরচ নিয়ন্ত্রণই মুনাফা বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে।
৯ মাসে ২৬০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে বার্জার
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টস চলতি হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে (এপ্রিল–ডিসেম্বর) ২ হাজার ১০১ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির ব্যবসার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ব্যবসা বেড়েছে ৮৬ কোটি টাকা বা সোয়া ৪ শতাংশের বেশি।
বৃহস্পতিবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি। এর আগে বুধবার বার্জার পেইন্টসের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রতিবেদনটি অনুমোদন করা হয়। উল্লেখ্য, কোম্পানিটির হিসাব বছর এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের প্রথম ৯ মাসে সব ধরনের খরচ ও কর বাদ দিয়ে বার্জার পেইন্টসের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৬০ কোটি টাকায়। আগের বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ২৪১ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ১৯ কোটি টাকা বা প্রায় ৮ শতাংশ।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যবসার তুলনায় মুনাফা বেশি বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে পরিচালন ও আর্থিক খরচ কমে যাওয়া। ২০২৪ সালের এপ্রিল–ডিসেম্বর সময়ে যেখানে কোম্পানিটির পরিচালন খরচ ছিল ৩৩৭ কোটি টাকা, গত বছরের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৩২ কোটি টাকায়। একই সঙ্গে সুদসহ আর্থিক খরচ ৩০ কোটি টাকা থেকে কমে এসেছে মাত্র ১২ কোটি টাকায়।
তবে মুনাফা বাড়লেও শেয়ারবাজারে এর প্রতিফলন তৎক্ষণাৎ দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বার্জার পেইন্টসের শেয়ারের দাম ৫০ পয়সা কমে দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪১১ টাকায়।
৬ মাসে ৯৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা এপেক্স ফুটওয়্যারের
জুতার বাজারের শীর্ষস্থানীয় দেশীয় কোম্পানি এপেক্স ফুটওয়্যার চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই–ডিসেম্বর) ৯৪৩ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৮২৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ১১৪ কোটি টাকা বা প্রায় ১৪ শতাংশ।
মঙ্গলবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রকাশিত অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রতিবেদনটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সব ধরনের খরচ ও কর বাদ দিয়ে এপেক্স ফুটওয়্যারের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকায়। আগের অর্থবছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে ২ কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশের বেশি।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৮২৯ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে উৎপাদন খরচ ছিল ৬০৮ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৯৪৩ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে উৎপাদন খরচ দাঁড়িয়েছে ৭০১ কোটি টাকায়। ব্যবসা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়লেও উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকায় মুনাফার প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে।
এপেক্স ফুটওয়্যারের কোম্পানি সচিব ওমর ফারুক জানান, ২০২৪ সালের শেষ ছয় মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। সে তুলনায় গত বছরের শেষ ছয় মাসে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া নানা উদ্যোগ মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ ছাড়ের বিক্রির সময়সীমা বাড়ানোয় গত বছর ভালো সাড়া পাওয়া গেছে।
অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন ছাড়াও কোম্পানিটি অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ওই তিন মাসে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে পাঁচ কোটি টাকার বেশি, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় দুই কোটি টাকা বেশি। একই সময়ে ব্যবসা হয়েছে ৪৫৯ কোটি টাকা।
মুনাফা বৃদ্ধির খবরে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে এপেক্স ফুটওয়্যারের শেয়ারের দাম ৪ টাকা ১০ পয়সা বা সোয়া ২ শতাংশের বেশি বেড়ে দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ১৮২ টাকায়। এদিন প্রায় সোয়া ২ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা।
























