JAC EnergyPac Power
Crystal Life Insurance
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

ফেয়ার ভ্যালু থেকে ২০ শতাংশ বেশি দর প্রস্তাবের সুযোগ


২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সোমবার, ০২:১৭  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেয়ার বিজনেস24.কম


ফেয়ার ভ্যালু থেকে ২০ শতাংশ বেশি দর প্রস্তাবের সুযোগ

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে অতিমূল্যায়নের অভিযোগ বেশ পুরনো। এ পর্যন্ত বেশ কয়েক দফা বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে সংশোধন এনেও শেয়ারের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি জারি করা নির্দেশনার মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) ক্ষেত্রে শেয়ারের প্রান্তসীমা মূল্য (কাট-অফ প্রাইস) নির্ধারণের ইলেকট্রনিক বিডিংয়ে কোম্পানির ফেয়ার ভ্যালুর চেয়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দর প্রস্তাবের সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই এর বেশি দর প্রস্তাবের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কমিশন।

কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে, নিট সম্পদ পদ্ধতি ও ইল্ড পদ্ধতিতে নির্ধারিত মূল্যের গড় ফেয়ার ভ্যালু হিসেবে বিবেচিত হবে। আর এ ফেয়ার ভ্যালুর চেয়ে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বেশি দর প্রস্তাব করতে পারবেন বিডাররা। এ সময় ভগ্নাংশের পরিবর্তে পূর্ণ সংখ্যাকে হিসাবে নিতে হবে এবং সে ক্ষেত্রেও ২০ শতাংশের সীমা বজায় রাখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, একটি কোম্পানির ফেয়ার ভ্যালু হচ্ছে ২০ টাকা ৫০ পয়সা। এর চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি বা ২৪ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত বিড করতে পারবেন বিডাররা। কিন্তু কোম্পানির দর প্রস্তাবে ভগ্নাংশের পরিবর্তে পূর্ণ সংখ্যা বিবেচনায় নিতে হবে। এক্ষেত্রে ২৪ টাকা ৬০ পয়সার নিকটবর্তী পূর্ণ সংখ্যা ২৫ টাকা ধরা হলে ২০ শতাংশের সীমার বেশি হয়ে যাবে। তাই এখানে ২৪ টাকাকে নিকটবর্তী পূর্ণ সংখ্যা হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে ফেয়ার ভ্যালুর ২০ শতাংশের বেশি দর প্রস্তাবের সুযোগ নেই। আর ২০ শতাংশের সীমার মধ্যেই পূর্ণসংখ্যা ধরে দর প্রস্তাব করতে হবে।

আজ বিকাল ৫টায় বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেডের প্রান্তসীমা মূল্য নির্ধারণের নিলাম শুরু হবে। এই নিলাম থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিডিং-সংক্রান্ত কমিশনের নতুন নির্দেশনার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরাও। পুঁজিবাজারের শীর্ষস্থানীয় একটি ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী বণিক বার্তাকে বলেন, বিএসইসি নতুন যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটির কারণে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের দর নির্ধারণে এতদিন যে অনৈতিক চর্চা চলে আসছিল, সেটি অনেকাংশে কমে আসবে। ফলে বিডিংয়ে শেয়ারের যৌক্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা সিকিউরিটিজের সঠিক ও ন্যায্য দর নির্ধারণের লক্ষ্যেই মূলত কমিশন বুক বিল্ডিং পদ্ধতি চালু করেছে। এক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের (ইআই) চাহিদার ওপর ভিত্তি করে শেয়ারটির অফার প্রাইস নির্ধারণ করা হয়। এ কারণে কমিশন আশা করে, যোগ্য বিনিয়োগকারীরা প্রান্তসীমা মূল্য নির্ধারণের নিলামে অংশ নিয়ে তাদের বিচার-বিবেচনায় যে দর সঠিক বলে মনে হয়, তা প্রস্তাব করবেন। কমিশন এটাও আশা করে যে পুঁজিবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় যোগ্য বিনিয়োগকারীরা দায়িত্ববোধ অক্ষুণ্ন রেখে এবং সব ধরনের সিকিউরিটিজ আইন পরিপালনের মাধ্যমে তাদের দর প্রস্তাব করবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত হতেই ১৯৬৯ সালে প্রণীত সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্সের ২০(এ) ধারা অনুযায়ী বুক বিল্ডিং পদ্ধতির নিলামে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি। এ আচরণবিধির মধ্যে রয়েছে—

যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের জন্য যোগ্য বিনিয়োগকারী অন্তত দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি দর প্রস্তাবকারী কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটির সদস্যদের এ-সংশ্লিষ্ট সম্যক জ্ঞান, দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কমিটি সিকিউরিটিজটির বাজারমূল্য ও প্রসপেক্টাসের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ শেষে নিলামে অংশগ্রহণের জন্য সুপারিশ করবে। কমিটির সদস্যরা বিডিংয়ের জন্য শেয়ারের পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে দেবেন। এক্ষেত্রে এ কমিটিকে তিনটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এগুলো হলো নিট অ্যাসেট পদ্ধতি, ইল্ড পদ্ধতি ও ফেয়ার ভ্যালু পদ্ধতি।


নিট অ্যাসেট পদ্ধতিতে শেয়ারের ভ্যালুয়েশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোম্পানির কল্পিত সম্পদ, মন্দ ঋণ, অগ্রাধিকারমূলক শেয়ারহোল্ডারদের স্বত্ব, প্রস্তাবিত লভ্যাংশ কিংবা অন্য কোনো প্রদেয় লভ্যাংশকে নিট সম্পদ থেকে বাদ দিয়ে যা থাকবে সেটিকে মোট সাধারণ শেয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করতে হবে।

ইল্ড পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোম্পানির প্রত্যাশিত আয়ের হারকে স্বাভাবিক আয়ের হার দিয়ে ভাগ করে সেটিকে সাধারণ শেয়ারের অভিহিত মূল্য দিয়ে গুণ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যাশিত আয়ের হার নির্ধারণের জন্য গত পাঁচ বছরের কর-পরবর্তী মুনাফার সাধারণ গড়কে শেয়ার প্রিমিয়ামসহ পরিশোধিত সাধারণ শেয়ার ক্যাপিটাল দিয়ে ভাগ দিলে যা থাকবে, সেটিকে ১০০ দিয়ে গুণ করতে হবে।

আর ফেয়ার ভ্যালু পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য হবে নিট সম্পদ পদ্ধতি ও ইল্ড পদ্ধতিতে প্রাপ্ত মূল্যের সাধারণ গড়। এক্ষেত্রে একজন বিডার ফেয়ার ভ্যালু পদ্ধতিতে কোম্পানির শেয়ারের মূল্যের ১ দশমিক ২ গুণ বা ২০ শতাংশের বেশি বিড করতে পারবেন না।

কমিটির সুপারিশের আলোকে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা নিলামে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবেন। কমিশন বা স্টক এক্সচেঞ্জের তদন্তের জন্য যোগ্য বিনিয়োগকারীর এ সিদ্ধান্ত ও কমিটির কার্যপ্রণালি সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া নিলামের জন্য যোগ্য বিনিয়োগকারী ও কমিটিকে ডিউ ডিলিজেন্স ও স্বাধীন পেশাগত মূল্যায়নের চর্চা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

নিলামে দর নির্ধারণের জন্য বিচার-বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক, প্রযুক্তিগত, ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, মালিকানা ও সুশাসনের মতো বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপে না পড়ে সততার সঙ্গে বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই ইস্যুয়ার কোম্পানি, ইস্যু ম্যানেজার ও অন্যান্য যোগ্য বিনিয়োগকারীর কাছে প্রকাশ বা তাদের সঙ্গে বিনিময় করতে নিষেধ করেছে কমিশন।

যোগ্য বিনিয়োগকারীদের তাদের প্রস্তাবিত দরের মূল্যায়ন প্রতিবেদন নিলাম শেষ হওয়ার দুই কার্যদিবসের মধ্যে স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ নিলামের তথ্য সাত কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেবে। এক্ষেত্রে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের দর মূল্যায়নে কোনো ধরনের অসামঞ্জস্য পেলে, তা কমিশনকে জানাতে হবে।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: