JAC EnergyPac Power
Crystal Life Insurance
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ নয়: বিএসইসি চেয়ারম্যান


০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ বুধবার, ০২:১১  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেয়ার বিজনেস24.কম


দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ নয়: বিএসইসি চেয়ারম্যান

কেবল শেয়ারসংখ্যা কম, এ কারণে দুর্বল মৌলভিত্তির শেয়ারে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। পুঁজিবাজারে স্বল্পমূলধনী লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর প্রায়ই অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ‘খেলা’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি এই ‘খেলা’ আবার শুরু হয়েছে বিএসইসির একটি সিদ্ধান্তে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি স্বল্পমূলধনী কোম্পানিগুলোর বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে একটি কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে এই কমিটি প্রতিবেদন দেবে। বাংলাদেশে বড় আকারের বোনাস বা রাইট শেয়ার দেয়ার সম্ভাবনায় বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা আছে। কিন্তু পরে দেখা যায়, বিনিয়োগকারীদের বিপুল লোকসান হয়। কারণ, বোনাস বা রাইট শেয়ার সমন্বয়ের পর দাম কমতে থাকে।

এর আগে পুঁজিবাজারে বেশ কিছু দুর্বল খাতের কোম্পানি শুধু বোনাস শেয়ার দিয়ে নিজেদের পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে সেইসব বোনাস শেয়ার গলার কাঁটা হয়ে গেছে বিনিয়োগকারীদের জন্য। শেয়ারদর কমে লোকসান হয়ে গেছে।

স্বল্পমূলধনী কোম্পানি নিয়ে বিএসইসির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এসব শেয়ারের দর আবার তেতে উঠেছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই বাড়ছে লোকসানি কোম্পানির শেয়ারদরও, যেগুলোর লভ্যাংশ বিতরণের ইতিহাস নেই বললেই চলে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিএসইসি চেয়ারম্যান কথা বলেছেন এই বিষয়টি নিয়েও। বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
শিবলী রুবাইয়াত বলেন, বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে এটুকু বলতে চাই, আপনাদের বাজার ভালো। লাভ করার সুযোগ আছে ভালো। ভালোভাবে জেনেবুঝে বিনিয়োগ করবেন। ঝুঁকি সামলানোর সামর্থ্য যদি না থাকে তবে দুর্বল মৌলভিত্তির কোনো শেয়ারে বিনিয়োগ না করে শক্ত মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগ করুন। অন্তত দিন শেষে ডিভিডেন্ডটুকু পাওয়া যাবে।

স্বল্পমূলধনী কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে হলে তাদের হয়তো রাইট বা বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে হবে। অতীতে দেখা গেছে অনেক বড় রাইট বা বোনাস দেয়াকে কেন্দ্র করে শেয়ারদর আকাশচুম্বী হয়।

এই কমিটির বিষয়টি আগেই প্রকাশ করে কারসাজি করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে কি না- এমন প্রশ্ন ছিল শিবলী রুবাইয়াতের কাছে।

জবাবে তিনি বলেন, অনেক পুঞ্জীভূত বিষয় রয়ে গেছে। আমরা সমাধান করছি। সময়ের কারণে হয়তো এখনও সব করতে পারিনি। স্বল্পমূলধনী যেসব কোম্পানি আছে, এগুলোকে আমরা আস্তে আস্তে ঠিক করে ফেলব। আমরা একটা একটা করে ধরছি। কিন্তু সংখ্যা এত বেশি যে সময় কুলানো যাচ্ছে না। হয়তো একটু সময় লাগবে। তবে প্রতিদিনই কিছু না কিছু ডেভেলপ হচ্ছে। আপনি যে বিষয়টিকে অ্যাটেনশন ড্রপ করেছেন তা ঠিক। আমরা এ ব্যাপারে কাজ করছি।

সম্প্রতি বিএসইসি বোনাস লভ্যাংশে কড়াকড়ি আরোপ করে যে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটি নিয়েও কথা বলেন শিবলী রুবাইয়াত। একদিকে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর আলোচনা, অন্যদিকে বোনাস শেয়ারে কড়াকড়ি। বিষয়টি পরস্পরবিরোধী হয়ে গেল কি না- এমন প্রশ্নও ছিল তার কাছে।

জবাবে তিনি বলেন, অনেক বহুজাতিক কোম্পানি আছে, যারা বছর শেষে ভালো নগদ লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। তারা বোনাস বা রাইট দিয়ে পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে চায় না। তাদের ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ রকম হলে আমরা ছাড় দেব। তবে এখানে দেখা যাচ্ছিল যে, মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা কখনও ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেয় না। শুধু বোনাস শেয়ার দিতে থাকে। তাতে হয় কি, পেইড-আপ ক্যাপিটাল অনেক বেড়ে যায়। অনেক পেইড-আপ ক্যাপিটাল হয়ে যাওয়ার পর যখন মিনিমাম ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড না দিলে যে জেড ক্যাটাগরিতে চলে যাওয়ার ভয় থাকে, এমন হাই পেইড-আপ ক্যাপিটাল হয়ে যায় যে, তখন তার ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেয়ার সক্ষমতা থাকে না।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, কেবল পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোই তাদের উদ্দেশ্য না। কোম্পানিগুলো যেন নগদ লভ্যাংশে জোর দেয়, সেটাই চান তারা।

তিনি বলেন, আমরা সবার কথা কিন্তু বলিনি। আমরা বলেছি যারা জেড ক্যাটাগরির, যারা কখনও মানুষকে ডিভিডেন্ড দেয় না। শুধু বোনাস শেয়ার দিয়ে যায়, তাদের ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি। তাদেরকে মানুষকে বিনিয়োগের রিটার্ন দেয়া শিখতে হবে।

বোনাস শেয়ার ইস্যু করা যাবে না- এমনটাও নয় বলেও জানান বিএসইসি চেয়ারম্যান। বলেন, যদি মৌলভিত্তির ভালো কোম্পানি হয়, তারা যদি গ্রোথের দিকে যায়, ইনভেস্টমেন্টের দিকে যায়, তাহলে তো আমরা দেখবই। কিন্তু আমরা তাদের অ্যাকটিভিটিস দেখলেই বুঝতে পারব তাদের উদ্দেশ্যটা কী। লো পেইড-আপ, সেগুলো আমাদের মেইন বোর্ডে থাকার জন্য যে পরিমাণ পেইড-আপ লাগে… আমরা গতকালও একটি কোম্পানিকে বলে দিয়েছি… অনেক পুরোনো কোম্পানি, আপনারা পেইড-আপ ক্যাপিটাল বাড়ান। তারা কাজ শুরু করেছে।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: