JAC EnergyPac Power
Sea Pearl Beach Resort & SPA Ltd
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

পুঁজিবাজার বন্ধে বিদেশি বিনিয়োগ হারানোর শঙ্কা


১৫ মে ২০২০ শুক্রবার, ১০:৩৮  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক


পুঁজিবাজার বন্ধে বিদেশি বিনিয়োগ হারানোর শঙ্কা

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ শ্রীলংকায় ৫২ দিন বন্ধ থাকার পর গত সোমবার পুঁজিবাজার চালু হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা বিদেশী ফান্ডগুলো তাদের বিনিয়োগ নিয়ে সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। আপত্কালীন পরিস্থিতিতে এ দুই দেশের পুঁজিবাজারের ভঙ্গুরতার বিষয়টি বিদেশী ফান্ডগুলোকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ব্লুমবার্গের কাছে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন বিদেশী ফান্ডগুলোর কর্মকর্তারা।

ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, সারা বিশ্বে গুটিকয় দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা অন্যতম, যেখানে করোনাভাইরাসের প্রভাবে মার্চ থেকে পুঁজিবাজার বন্ধ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী এপ্রিলে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াতে দেখা গেলেও বন্ধ থাকার কারণে এই দুই দেশের বিনিয়োগকারীরা এক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছে।

টেলিমার দুবাইয়ের ইকুইটি স্ট্র্যাটেজির প্রধান হাসনাইন মালিক বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে বলেন, এটি একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা। এত দীর্ঘ সময় ধরে বাজার বন্ধ থাকার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী এখান থেকে চলে যাবে। হয়তো একেবারে সব বিনিয়োগ প্রত্যাহার হবে না। এক্ষেত্রে বিদেশীরা ধীরে ধীরে তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেবে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে স্টকহোমভিত্তিক টুন্ড্রা ফন্ডার এবির। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা ম্যাটিয়াস মার্টিনসন জানান, কভিড-১৯-এর মতো পরিস্থিতিতে ছোট আকারের ইমার্জিং মার্কেট এবং ফ্রন্টিয়ার মার্কেটের ভঙ্গুরতার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু হলে ওষুধ খাতে থাকা ফান্ডটির বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি এমএসসিআই ইনকরপোরেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় এ বছরের মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির অর্ধবার্ষিক সূচক পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পরিবর্তন আসবে না। এমনকি এটি এ বছরের আগস্ট প্রান্তিকের রিভিউ পর্যন্ত এটি প্রলম্বিত হতে পারে।

হংকংভিত্তিক এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটালের বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থমাস হাগার জানান, দীর্ঘ সময় ধরে পুঁজিবাজার বন্ধ থাকার কারণে এমএসসিআইয়ের মতো বৈশ্বিক সূচক থেকে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দুই বছর ধরেই দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার তুলনায় বিক্রির প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও এর মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব অনেক। অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশী বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচার প্রবণতাকে দেশের বিনিয়োগকারীরা অনুসরণ করে থাকেন। এ অবস্থায় বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট ও ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ছায়েদুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পুঁজিবাজার বন্ধ থাকার কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে যে অভিমত এসেছে সেটি মোটেও কাম্য নয়। তবে কভিড-১৯-এর কারণে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, সেটি আমাদের জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। এক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে আমাদের ঘাটতি ছিল। তবে এ পরিস্থিতি থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জকে সব বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সুরক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। তাছাড়া বর্তমানে আমাদের পুঁজিবাজারের পিই রেশিও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাই ভবিষ্যতে বিদেশী বিনিয়োগ আরো বাড়বে বলে জানান তিনি।

লেনদেন ব্যবস্থা অটোমেটেড হলেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় ঘাটতি থাকার কারণে দেশের পুঁজিবাজারের আনুষঙ্গিক কার্যক্রম এখনো অনেকাংশে ব্যক্তিনির্ভর। ফলে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটির মধ্যে পুঁজিবাজারের কার্যক্রম চালু রাখা স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য বেশ দুরূহ। তাছাড়া লেনদেন চালু রাখতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সার্ভিল্যান্স বিভাগ ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএলের) কার্যক্রম চালু থাকতে হবে। এছাড়া বিদ্যমান পরিস্থিতিতে লেনদেন চালু করতে হলে পুঁজিবাজারকে জরুরি সেবার আওতাভুক্ত করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশেই পুঁজিবাজার জরুরি সেবার অন্তর্ভুক্ত। অবশ্য পুঁজিবাজার চালু করতে বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে কমিশনের কাছে অনেকগুলো বিষয়ে ছাড় চেয়ে চিঠি দেয়া হয়। এক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জটি পাবলিক ইস্যু রুলস, লিস্টিং রেগুলেশন, স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি বিধিমালাসহ কমিশনের বেশকিছু আদেশ ও প্রজ্ঞাপন পরিপালনের বাধ্যবাধকতা শিথিল করার প্রস্তাব দেয়। এসব বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত ও সম্মতি পেলে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষে লেনদেন চালু করা সম্ভব বলে জানানো হয়।

ডিএসইর প্রস্তাবিত এসব বিষয়ে ছাড় ও শিথিলতা দিতে হলে বিএসইসিকে কমিশন সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চলতি মাসের ২ তারিখে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন নিজামীর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তার আগে ১৮ এপ্রিল আরেক কমিশনার অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার বালার মেয়াদ শেষ হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ। শুধু কমিশনার খোন্দকার কামালুজ্জামানের মেয়াদ আগামী বছরে শেষ হবে। এ অবস্থায় ন্যূনতম তিনজন কমিশনারের সমন্বয়ে কোরাম পূর্ণ করে বিএসইসির পক্ষে কমিশন সভা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত কমিশন সভার মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর এ কারণে পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু করতে ডিএসইর প্রস্তাবের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না কমিশন।

অবশ্য পুঁজিবাজার চালুসংক্রান্ত ডিএসইর প্রস্তাবটি বিএসইসির পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে পুঁজিবাজার জরুরি সেবার মধ্যে পড়ে কিনা, সেটি জানতে চাওয়া হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে মতামত আসেনি বলে জানা গেছে।

পুঁজিবাজার চালুর বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে পাঠানো ডিএসইর প্রস্তাবে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে জানিয়ে এক্সচেঞ্জটির চেয়ারম্যান মো. ইউনূসুর রহমান বলেন, কমিশন থেকে সিদ্ধান্ত না এলে ডিএসইর পক্ষে তো আর পুঁজিবাজার চালু করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি দুজন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে কমিশনের পক্ষে ডিএসইর প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি। এখন নতুন কমিশন দায়িত্ব নেয়ার পর এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, আমরা সে অপেক্ষায় রয়েছি।

 

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: