Runner Automobiles
Sea Pearl Beach Resort & SPA Ltd
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

পুঁজিবাজারে উল্লম্ফন হবে কখন জানালেন ডিএসইর এমডি


২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ রবিবার, ০২:২১  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক


পুঁজিবাজারে উল্লম্ফন হবে কখন জানালেন ডিএসইর এমডি

সম্প্রতি দেশের সবচেয়ে প্রধান স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন কাজী ছানাউল হক। তিনি এক্সচেঞ্জটির ডিমিউচুয়ালাইজেশন-পরবর্তী তৃতীয় এমডি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর ১৯৮৪ সালে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সিনিয়র অফিসার হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), আইসিবি ও কর্মসংস্থান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সম্প্রতি একান্ত আলাপচারিতায় তিনি দেশের পুঁজিবাজার ও ডিএসইর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

আপনার কর্মজীবনের বড় একটা সময় কেটেছে আইসিবিতে। পুঁজিবাজারকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা রয়েছে আপনার। গত বছরটা পুঁজিবাজারের জন্য ভালো যায়নি। দেশের সবচেয়ে বড় স্টক এক্সচেঞ্জের এমডি হিসেবে আপনার লক্ষ্যের বিষয়ে জানতে চাই?
আমার কর্মজীবনের দীর্ঘ একটা সময় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ে কেটেছে। সেই সুবাদে দেশের পুঁজিবাজারের গতিপ্রকৃতি কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। গত বছর পুঁজিবাজার ভালো যায়নি। অবশ্য সম্প্রতি সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বেশকিছু পদক্ষেপের ফলে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যে কোম্পানিতে আপনার টাকা বিনিয়োগ করবেন, সেটির ওপরও আপনার আস্থা থাকতে হবে। আমি মনে করি, এক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব কোম্পানি তালিকাভুক্ত হচ্ছে, সেগুলোর যাচাই-বাচাই প্রক্রিয়াটি যদি আরো নিবিড় ও স্বচ্ছ করা সম্ভব হয়, তাহলে কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষে ইতিবাচক ও নেতিবাচক সবকিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়াটা সহজ হয়। এতে পুঁজিবাজারে মন্দ আইপিও আসা বন্ধ হয়ে যাবে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর বিএসইসির সঙ্গে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে স্টক এক্সচেঞ্জকে সহায়তা করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। আমি মনে করি যে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ বাজারসংশ্লিষ্ট যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সবার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। সমন্বয় থাকলে সবকিছুই ভালোভাবে করা সম্ভব। ডিএসইর পর্ষদে নতুন যারা আসছেন, তারা তাদের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে সমৃদ্ধ করতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস। আর ডিএসইতে শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হিসেবে যারা রয়েছেন, তাদের পুরো জীবনটাই কেটেছে পুঁজিবাজারে। তারা সবাই পুঁজিবাজারের বোদ্ধা। তাদের অভিজ্ঞতাকে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। আমার একার পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করা সম্ভব বলে আমি মনে করি। শুধু নিজের সুবিধা দেখলে হবে না। সবাই একসঙ্গে কাজ না করলে বাজারকে ভালো করা সম্ভব নয়। আরেকটি বিষয়, দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতেই হবে। শক্তিশালী পুঁজিবাজারের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।

স্টক এক্সচেঞ্জকে লাভজনক করবেন কীভাবে?
আমাদের এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা রয়েছেন, তাদের দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বাজারে নতুন নতুন পণ্য আনতে হবে, যাতে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ে। স্টক এক্সচেঞ্জে বন্ডের লেনদেন বাড়ানোর কাজ চলছে। ট্রেজারি বন্ড যেগুলো এরই মধ্যে তালিকাভুক্ত রয়েছে কিন্তু লেনদেন হচ্ছে না, এগুলোকে লেনদেনযোগ্য করতে হবে। সামনে পুঁজিবাজারে অনেক বন্ড আসবে। বর্তমানে আশুগঞ্জ পাওয়ারের যে বন্ডটি পুঁজিবাজারে লেনদেন হচ্ছে, সেটির কাজ আমি যখন আইসিবিতে ছিলাম তখন শুরু হয়েছিল। তাছাড়া আমাদের যে এসএমই প্লাটফর্ম রয়েছে, সেখানে নতুন নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তির সুযোগ তৈরি রয়েছে। এ প্লাটফর্মেও সামনে অনেক কোম্পানি আসবে। সুদীর্ঘ কর্মজীবনে আমার চাওয়া বা পাওয়ার কিছু নেই, অনেক পেয়েছি, এবার দেয়ার পালা। পুঁজিবাজার ও স্টক এক্সচেঞ্জের উন্নয়নে আমি আমার সর্বোচ্চটা দিতে চাই। সম্প্রতি পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বেশকিছু নীতিসহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। তাছাড়া ব্যাংকের সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য মানুষ এমনিতেই আসবে। কারণ ব্যাংক কিংবা অন্য কোনো খাতে বিনিয়োগের তুলনায় আপনি পুঁজিবাজারে বেশি রিটার্ন পাবেন। ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য তহবিল গঠনের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, সে অর্থ এখনো পুঁজিবাজারে আসেনি। কিন্তু তার আগেই মানুষের মধ্যে একটি আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে এবং তারা সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছে। ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী শেনঝেন-সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ আমাদের প্রযুক্তিগত অনেক সহায়তা দেবে। এজন্য কিছুটা সময় লাগবে। আগামী দুই থেকে চার বছরের মধ্যে বাজারের কাঠামো অনেকটাই উন্নত হবে। বাজারে এখন হাজার কোটি টাকার মতো লেনদেন হচ্ছে, যেটি কিছুদিন আগেও ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে ছিল। ভবিষ্যতে এটি ২ হাজার, ৪ হাজার, এমনকি ৬ হাজার কোটি টাকা হলেও এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে এজন্য আগে থেকেই আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আরেকটি বিষয়, বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যেগুলো রয়েছে যেমন ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা-সংক্রান্ত যেসব বিধিবিধান রয়েছে, সেগুলো পরিপালন করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে বাজারের আকার বাড়লেও সেটি ধারণ করার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা তাদের থাকে।

আপনার দৃষ্টিতে পুঁজিবাজারের মূল সমস্যাগুলো কী?
দেখুন, আমি মনে করি যার যে ভূমিকা সেটি যদি ঠিকমতো পালন করা হয়, তাহলে কিন্তু আর কোনো সমস্যা থাকে না। এই যেমন তালিকাভুক্ত কোম্পানি যেগুলো রয়েছে তাদের পর্ষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এটি যথাযথভাবে পরিপালন করা হলে কিন্তু কোনো সমস্যা থাকে না। আবার স্টক এক্সচেঞ্জের পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একটি সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। আবার বাজারসংশ্লিষ্ট যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেগুলোর পর্ষদেরও ভূমিকা রয়েছে। সবাই যদি তাদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করে, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আমাদের বাজারে বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ খুব বেশি না। এর পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ বেশকিছু লাভজনক সরকারি কোম্পানির শেয়ার পুঁজিবাজারে অফলোডের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে এলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরো বাড়বে। তখন আরো বেশি বিদেশী বিনিয়োগকারী বাজারে আসবে। কারণ তারা দেখবে যে এখানে বিনিয়োগ করার মতো ভালো শেয়ার রয়েছে।

সরকারি কোম্পানির বাইরেও দেশে অনেক বহুজাতিক ও বেসরকারি খাতের কোম্পানি রয়েছে, যেগুলোর ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স ভালো কিন্তু এখনো পুঁজিবাজারের বাইরে রয়েছে। এসব কোম্পানিকে কীভাবে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা যায়?
যারা ভালো তারা কিন্তু সামনে আসে না। অনেকটাই আড়ালে থেকে নীরবে কাজ করে। আমাদেরই তাদের খুঁজে বের করতে হবে। অনেকের আবার বাজার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। কেউ কেউ আবার এত বেশি কমপ্লায়েন্সের মধ্যে পড়তে চায় না। আমরা এসব ভালো ভালো কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করব, তাদের উৎসাহিত করব পুঁজিবাজারে আসার জন্য। বিশ্বের অনেক দেশেই কিন্তু বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক। আমাদের এখানেও এ ধরনের কিছু করা যায় কিনা সেটি আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গেও আলোচনা করব। তবে এরই মধ্যে কিন্তু দুটি বহুজাতিক কোম্পানি সম্প্রতি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। তারা পুঁজিবাজারে আসতে চায়। আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমরা সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

পুঁজিবাজারে যেসব বহুজাতিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে, সেগুলোর পাবলিক শেয়ারের সংখ্যা বেশ কম? এ কোম্পানিগুলোর পাবলিক শেয়ারের সংখ্যা আরো বাড়াতে কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি?
এটি একটি ভালো প্রস্তাব। বর্তমানে পুঁজিবাজারে যেসব বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে, তাদের অনেকেরই পাবলিক শেয়ারের সংখ্যা অনেক কম। এ কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগ শেয়ারই উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে রয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ব্যবসা কীভাবে করতে হয়, সেটি খুব ভালো বোঝে। তাদের মধ্যে কমপ্লায়েন্স মেনে চলার প্রবণতা বেশি। ফলে বাজারে এসব কোম্পানির শেয়ার সংখ্যা বাড়লে সেটি বিনিয়োগকারীদের জন্যই ভালো হবে। আমি আমার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব যে কীভাবে বাজারে এসব কোম্পানির পাবলিক শেয়ার সংখ্যা আরো বাড়ানো যায়।

আপনি আইপিও প্রক্রিয়ায় আরো নিবিড় যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলছিলেন। এ বিষয়ে একটু বিস্তারিত জানতে চাই....
আপনারা জানেন যে আইপিও প্রসপেক্টাস পর্যালোচনার জন্য আমাদের একটি এক্সপার্ট প্যানেল রয়েছে। তারা প্রত্যেকটি আইপিও প্রসপেক্টাস পর্যালোচনা করে আমাদের কাছে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছে। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর এ-সংক্রান্ত কিছু প্রতিবেদন দেখেছি। সত্যি কথা বলতে কি, এক্সপার্ট প্যানেল এত গভীরে গিয়ে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেছে যে আমি অভিভূত। আমরা প্যানেলের প্রতিবেদনগুলো পর্ষদে উপস্থাপন করে তাদের মতামতসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এভাবে যদি আমরা কাজ করতে পারি, তাহলে বাজারে কোনো খারাপ আইপিও আসতে পারবে না।

স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন হলেও এখনো সেটি পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। ডিমিউচুয়ালাইজেশনের সুফল পুরোপুরি নিশ্চিত করতে আপনি কী ভূমিকা রাখবেন?
ডিমিউচুয়ালাইজেশনের ধারণাটি অনেক ব্যাপক। এর অধিকাংশই আমরা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছি। কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। তাদের বলেছি যে কোন কোন বিষয়গুলো আমরা এখনো পরিপালন করতে পারিনি সেগুলো চিহ্নিত করার জন্য। এমনকি এ বিষয়টি নিয়ে আমি পর্ষদেও আলোচনা করেছি। পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সমন্বিত সহায়তার মাধ্যমে ডিমিউচুয়ালাইজেশন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আমার বিশ্বাস।

ডিএসইতে নতুন নতুন পণ্য ও সেবা চালু করতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন। এ বিষয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
আমি এখানে যোগ দেয়ার পর দেখেছি, এখানে তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগে আজ থেকে কয়েক বছর আগে যে পরিমাণ লোকবল ছিল, এখনো তাই আছে। অথচ এখন কিন্তু আগের তুলনায় বাজারের পরিধি অনেক বেড়েছে। আর এক্সচেঞ্জের কাজে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মীর গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই আইটি বিভাগে আরো কর্মী নিয়োগের বিষয়টিকে আমি গুরুত্ব দিচ্ছি। তাছাড়া অন্যান্য বিভাগেও যদি প্রয়োজন হয় তাহলে দক্ষ কর্মী নেয়া হবে। এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আমি দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার দিকে জোর দিতে চাই।

পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন?
বর্তমানে দেশে অনেকগুলো মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে বেশকিছু প্রকল্পের কাজ শেষের দিকে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অনেক অর্থ ব্যয় হচ্ছে এবং এ কারণে এখন অর্থনীতিতে কিছুটা কঠিন সময় যাচ্ছে। কিন্তু এ প্রকল্পগুলো শেষ হয়ে গেলে তখন পুরো পরিস্থিতি বদলে যাবে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি, মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে পুঁজিবাজারে বড় একটা উল্লম্ফন হবে।

আপনার এমন মনে হওয়ার কারণ কী?
দেখুন, বড় একটি প্রকল্প শেষ হওয়ার পর কিন্তু সেটিকে ঘিরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। পদ্মা সেতুসহ আরো যে মেগা প্রকল্প রয়েছে, সেগুলো চালু হয়ে গেলে এর অর্থনৈতিক প্রভাব হবে ব্যাপক। পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর মধ্যে কানেক্টিভিটি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বেড়ে যাবে। এতে মানুষের আয়ক্ষমতা বাড়বে। আর আয় বাড়লে মানুষের বিনিয়োগের সক্ষমতাও বাড়ে। তাছাড়া মেগা প্রকল্পগুলো বিদেশী বিনিয়োগের প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। তখন দেশে বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে। সবকিছু মিলিয়েই তখন মানুষ বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজারে আসবে। দেশের মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতার জন্যও স্থিতিশীল পুঁজিবাজার প্রয়োজন। খেলাপি ঋণের মূল কারণ পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদে তহবিল না নেয়া। ব্যাংকগুলো স্বল্প ও মধ্যম মেয়াদে আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদের জন্য বিনিয়োগ করে সমস্যায় পড়েছে। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের জন্য পুঁজিবাজারে আসতেই হবে। তাই সামনে আমাদের পুঁজিবাজার আরো গতিশীল হবে বলেই আমার বিশ্বাস।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: