Runner Automobiles
Sea Pearl Beach Resort & SPA Ltd
Share Business Logo
bangla fonts
facebook twitter google plus rss

কেমন হবে ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতি


১৯ জুলাই ২০২০ রবিবার, ১০:৫৮  পিএম

শেয়ার বিজনেস24.কম


কেমন হবে ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতি

চলতি অর্থবছরের প্রথম থেকেই কোভিড-১৯ পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে রেখেছে। থেমে গেছে, শ্লথ হয়ে আছে অর্থনীতির চাকা। স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য, এমনকি পরিবর্তন এসেছে সাধারণ জীবন আচরণেও। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বিপদ-সংকুল অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ-এর ভিতর থেকেই সব দেশ চেষ্টা করছে স্বাভাবিক হবার।

জনগণ, প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও সরকার- সবাই অর্থনীতিতে বিভিন্নভাবে তাদের স্ব স্ব গণ্ডির মাঝে এবং একই সাথে অন্যান্য সত্তার সাথে মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যে কোনো আধুনিক রাষ্ট্রে রাজস্ব ও মুদ্রানীতির মাধ্যমে সরকার সামষ্টিক অর্থনীতির গতিধারা নিয়ন্ত্রণে ও পরিচালনায় বিশেষ নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে।

সরকার ইতিমধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদের অনুমোদনক্রমে বাস্তবায়ন শুরু করেছে। প্রচলিত বিধান (Convention) অনুযায়ী শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২০-২১ অর্থবছরের ১ম ষান্মাসিক/বার্ষিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করবে। এ নিবন্ধটিতে সম্ভাব্য মুদ্রানীতি কী হতে পারে, কী কী চ্যালেঞ্জ এই নীতি প্রণয়নে বিবেচনায় আনা প্রয়োজন এবং ঘোষিত রাজস্ব নীতি (বাজেট) আসন্ন মুদ্রানীতির উপর কী প্রভাব রাখবে, সেসব বিষয়ে আলোকপাত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

মোটামুটিভাবে প্রায়োগিক দিকসমূহ বিবেচনায় মুদ্রানীতি অন্য তিনটি নীতির উপর নির্ভর করে- (ক) রাজস্বনীতি (Fiscal Policy), (খ) লেনদেন ভারসাম্যনীতি (Balance of Payments Policy) এবং (গ) ব্যক্তিখাতে ঋণ সরবরাহনীতির (Private Sector Credit Policy) উপর।

দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক লক্ষ্যসমূহ অর্জনে মুদ্রানীতি এবং উল্লেখিত এই নীতিগুলোর মাঝে সমন্বয়ের প্রয়োজন পড়ে। আবার এই নীতিগুলো কেমন হবে, কেমন এদের মধ্যকার সমন্বয় হবে, তা নির্ভর করে দেশটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো অর্থনৈতিক বা অনার্থনৈতিক অভিঘাতের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে কিনা তার উপর।

কোভিড-১৯ এর ছোবলে বিপর্যস্ত পৃথিবী। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছরের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক হবে (-৪ দশমিক ৯ শতাংশ)। এ সময়ে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের প্রবৃদ্ধিও ঋণাত্মক হবে (-৩.০ শতাংশ) (সারণি-১)।

যদিও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের অনুমান অনুযায়ী ২০২০-২১ অর্থ বছরের প্রবৃদ্ধির চাকা প্রায় সব দেশেই সচল হবে। বিশ্বের গড় প্রবৃদ্ধি বাড়বে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। আর উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশসমূহে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ হবে। এই অনুমানের পেছনেও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কা রয়েছে।


গত তিন বছরের রাজস্ব-সমষ্টিসমূহ (Fiscal Aggregates) খেয়াল করলে দেখতে পাবো (সারণী-২):

১. বাজেট ঘাটতি এই তিন বছরেই জিডিপির ৫ শতাংশের উপরে ছিল;

২. কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হচ্ছে না, প্রকৃত রাজস্ব আয় জিডিপির ১০ শতাংশের ভেতর সীমিত থাকছে;

৩. বৈদেশিক ঋণ ও নন-ব্যাংক ঋণ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হচ্ছে;

৪. কাজেই বাড়তি বাজেট ঘাটতির চাপ এবং অনাদায়ী বৈদেশিক ঋণ ও নন-ব্যাংক ঋণের চাপ এসে পড়ছে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে আহরিত ঋণের উপর;

৫. মাত্র তিন বছরে ব্যাংক ব্যবস্থা হতে গৃহিত ঋণ জিডিপির ১.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ফলে মুদ্রানীতিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতে প্রদেয় ঋণ স্থিতির (Credit)-এর যে প্রাক্কলন করা হচ্ছে, তা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না;

৬. এখানে উল্লেখ করা জরুরী, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের পূর্ব পর্যন্ত জাতীয় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি ছিল অনিয়ন্ত্রিত। তাই, বাজেট ঘাটতির প্রায় ৭৫ শতাংশ (জিডিপির ৩ শতাংশ) মেটানো হত সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের মাধ্যমে নন-ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণ করে। এই অনিয়ন্ত্রিত সঞ্চয়পত্রের ক্রয়ের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করেছিল। কাজেই, এই ক্রয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা যথাযথ হয়েছে।

মুদ্রানীতির মূল দুইটি লক্ষ্য হচ্ছে- (ক) নির্দিষ্ট সিলিং এর ভেতর মূল্যস্ফীতি সীমিত রাখা এবং (খ) প্রকৃত জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করা। তাই, সাধারণভাবে মূল্যস্ফীতি, প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রা চাহিদার প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করে কোন বছরে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের (Broad Money) প্রবৃদ্ধি কতটা হবে। তাই, সাধারণভাবে বলা হয়- যেকোনও অর্থবছরে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের (Broad Money) প্রবৃদ্ধি নমিনাল জিডিপির সমান হওয়াটাই কাঙ্ক্ষিত। এই নমিনাল জিডিপির প্রবৃদ্ধির সাথে মুদ্রা চাহিদার প্রবৃদ্ধি সমন্বিত হয়েও কখনও ব্যাপক মুদ্রার প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়।

গত অর্থ বছরের মে থেকে চলতি অর্থ বছরের মে পর্যন্ত আর্থিক জরিপের (Monetary Survey) সমষ্টিগুলোর দিকে যদি খেয়াল করি তাহলে (সারণী-৩) থেকে দেখতে পাই:

১. এই সময়ে নিট বিদেশি সম্পদের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, নিট অভ্যন্তরীণ সম্পদের প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের (Broad Money) প্রবৃদ্ধি ঘটেছে ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ;

২. বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি (সরকারি ও বেসরকারি খাতের উপর) কমেছে -৩ দশমিক ১৭ শতাংশ;

৩. ডিপোজিট মানি ব্যাংকসমূহের (Deposit Money Banks) দাবি (সরকারি ও বেসরকারি খাতের উপর) বেড়েছে ১৩ দশমিক ২ শতাংশ;

৪. উল্লেখ্য, ডিপোজিট মানি ব্যাংকসমূহের সার্বিক জন খাতের (Public Sector) উপর দাবি বেড়েছে ৫৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ (সরকারি খাতে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ), সেখানে বেসরকারি খাতের উপর দাবি বেড়েছে মাত্র ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ;

স্পষ্টতই সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণ স্থিতি (Domestic Credit) সরকারি ও বেসরকারি খাতের ভেতরে কিভাবে বিতরণ হচ্ছে সেটা বোঝার জন্য সম্প্রতি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গত তিন বছরের ব্যাপক মদ্রা ও ঋণ স্থিতি সারণী ৪-এ তুলে ধরা হয়েছে। সারণি ৪ থেকে এটা স্পষ্ট যে:

১. জুন, ২০১৮-এ যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ঋণ স্থিতির অনুপাত ছিল ১১:৮৯, সেটা ক্রমান্বয়ে বেড়েছে এবং জানুয়ারি, ২০২০-এ এসে দাঁড়িয়েছে ১৫:৮৫ তে। মে, ২০২০-এ এই অনুপাত অনুপাত ১৫:৮৫ তে অপরিবর্তিত রয়েছে।

২. জানুয়ারি, ২০১৯ থেকে জানুয়ারি, ২০২০ সময়ে জন খাতে ( Public Sector) ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫৬ দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ একই সময়ে বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং এ সময়ে ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের (Broad Money) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ।

সারণি-৩ এবং ৪ থেকে দেখতে পাচ্ছি, আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায়, নিট বৈদেশিক প্রবৃদ্ধি গত তিন বছরেই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। যদিও এ সময়ে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য থেকে আমরা দেখতে পাই যে, এই তিন বছরের আমাদের চলতি হিসাব ভারসাম্য ঋণাত্মক ছিল (সারণি-৫)।


কাজেই এই সময়ে মূলধন ও আর্থিক Account উদ্বৃত্ত নিট বৈদেশিক সম্পদ আহরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। গত অর্থ বছরে শেষের দিকে এটা সম্ভব হয়েছে বহুপাক্ষিক উন্নয়ন-সহযোগীদের কাছে থেকে আর্থিক সাহায্য পাওয়া ও আমদানির দায় পরিশোধ না করার কারণে। সারণী-৫ থেকে আমরা আরও দেখতে পাই:

১. আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ মোটামুটিভাবে ৬ (ছয়) মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রয়েছে। এটা মোটামুটিভাবে স্বস্তিদায়ক। তবে, আমদানির দায় পরিশোধিত হলে এই স্বস্তি কিছুটা স্তিমিত হবে;

২. গত অর্থবছরের মে পর্যন্ত আমদানি কমেছে -১০ দশমিক ৮ শতাংশ, রপ্তানি কমেছে -১৮ দশমিক ২ শতাংশ (এর মধ্যে তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ, এ সময়ে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে -১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ, তবে লক্ষ্যণীয় একই সময়ে ব্যক্তিগত স্থানান্তর বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং রেমিটেন্স বেড়েছে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ)।

আমরা যদি গত বছরের মুদ্রানীতির লক্ষ্য এবং অর্জন খেয়াল করি (সারণী-৬) তাহলে দেখতে পাবো:

১. গত তিন বছরই কাঙ্ক্ষিত ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের (Broad Money) প্রবৃদ্ধি অর্জন অর্জিত হয়নি;

২. স্বাভাবিক নিয়মে (সঞ্চয়পত্রের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কারণে) সরকারের ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে যতটা নির্ধারণ করা হয়েছে তার থেকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে বেশ বেশি। অন্যদিকে ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশ কম হয়েছে।


উপর্যুক্ত তথ্য, আলোচনা এবং বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ২০২০-২১ অর্থবছরের ব্যাপক মুদ্রা সরবরাহের (Broad Money) প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ হতে পারে এবং ঘোষিত বাজেটের ব্যাংক ব্যবস্থা হতে সরকারি ঋণ গ্রহণের যে চাহিদা দেওয়া হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে জন খাতে (Public Sector) ক্রেডিটের (Credit)- এর প্রবৃদ্ধি ৪৫ শতাংশ এবং ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্ব্বোচ ১২ শতাংশ হতে পারে, যদিও এটা নির্ভর করবে ব্যক্তিখাতে স্থানীয় বিনিয়োগ কতটা চাঙা হবে তার উপর।

যেকোনও মুদ্রানীতি যথাযথ কার্যকারিতা বাস্তবায়ন নির্ভর করে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের উন্নয়ন স্তর, এর দক্ষতা ও বিরাজমান সুশাসনের উপর। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতের অপরিকল্পিত পরিমাণগত প্রসার ঘটেছে। সেভাবে আর্থিক পণ্যের ও সেবার বিকাশ ঘটেনি। তৈরি হয়নি বন্ড মার্কেট। দীর্ঘমেয়াদী সরকারি বন্ডের তৈরি হয়নি সেকেন্ডারি মার্কেট। দীর্ঘ-মেয়াদী প্রকল্প অর্থায়নে সৃষ্টি হয়নি ব্যক্তিখাত বন্ডের। কাঙ্ক্ষিতভাবে শেয়ার বাজারেরও উন্নয়ন ঘটেনি।

মুদ্রানীতির কার্যকারিতা আরও নির্ভর করবে- সরকারের ঋণ চাহিদার পূর্বাভাস, অর্থনৈতিক নীতিসমূহের পারষ্পারিক সমন্বয় ও বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের উপর। তবে, আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে – (ক) বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের পুঁজির ভিত্তি দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন এবং (খ) উচ্চ Non-performing Loan (NPL)-এর হার রেখে এবং NPL সংস্কৃতি জিইয়ে রেখে সুষ্ঠু ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা দুরূহ। আমরা সবাই জানি, আধুনিক উন্নতর ব্যাংকিং ব্যবস্থার মেরুদণ্ড (backbone) উন্নত দ্রুত নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবস্থা।

পূর্ব-নির্ধারিত আমানত ও ঋণের সুদের হার আর্থিক পণ্য ও খাত বহুমুখীকরণে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। উপরন্তু, এই ব্যবস্থা সত্যিকার অর্থে প্রয়োগযোগ্যও নয়। অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়মেই এতে এক ধরনের কালোবাজারির উদ্ভব হয়। এবং সাধারণ কাস্টমারের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়। তবে, হ্যাঁ মুদ্রা নীতি অর্থ সরবরাহের সাথে সাথে সুদের হার ব্যবস্থাপনার দিকেও নজর রাখবে। তবে, সেই সুদের হার হচ্ছে পলিসি রেট (policy rate), আমানত ও ঋণের সুদের হার নয়।

আর একটা কথা মনে রাখা প্রয়োজন- প্রকৃত সুদের হারের সাথে বিনিয়োগের তাত্ত্বিক যোগাযোগ প্রায়োগিকভাবে কোনও দেশেই প্রমাণিত হয়নি।

ব্যংকিং খাতে একধরনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা চলছে। জনগণ আশা করে, বাংলাদেশ ব্যাংক সার্বিক ব্যাংক ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইনি কাঠামোর পরিবর্তন ঘটিয়ে আর্থিক খাতের শৃংখলা নিশ্চিত করবে।

কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষিতে যেভাবে আর্থিক পরিধির বিস্তৃতি ঘটেছে তা থেকে মূল্যস্ফীতি ও টাকার অবমূল্যায়নের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আশা করব, দেশ ও জাতির প্রয়োজনে অতীতে যেভাবে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে, কোভিড-১৯ সৃষ্ট অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সে-ই একই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে। কোভিড-১৯ আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে- আমাদের, পৃথিবীর উন্নয়ন হতে হবে দারিদ্র-বান্ধব, ধরিত্রী-বান্ধব, পরিবেশ-বান্ধব। আশা করি, মুদ্রানীতি ২০২১ হবে সে স্বপ্নের নকশি-কাঁথা বুনন।

শেয়ারবিজনেস24.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন: