শীর্ষ ১০ বড় মূলধনী কোম্পানির নেতৃত্বে সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দেশের শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ হাজার ২৪৮ পয়েন্টে, যা গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। সূচকের এই শক্তিশালী উত্থানে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে ১০টি প্রভাবশালী কোম্পানি। লঙ্কাবাংলা অ্যানালাইসিস পোর্টাল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা কোম্পানিগুলো হলো— ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, রেনেটা, বিএটিবিসি, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, গ্রামীণফোন, আইডিএলসি ও ইউসিবি। এই ১০ কোম্পানি মিলেই আজ ডিএসইএক্স সূচকে প্রায় ৫৬ পয়েন্ট যোগ করেছে।
ইসলামী ব্যাংকের একক আধিপত্য
সূচকে সর্বাধিক অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এদিন ব্যাংকটি একাই ডিএসইএক্স সূচকে প্রায় ২৯ পয়েন্ট যোগ করে। ব্যাংকটির শেয়ারদর ৪ টাকা ৭০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৪০ পয়সায়। লেনদেনের সময় শেয়ারটির দর ৪৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৫২ টাকা ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। দিনশেষে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২০ কোটি ৯২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।
সূচকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবদান রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। এদিন ব্যাংকটি সূচকে প্রায় ৮ পয়েন্ট যোগ করেছে। ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারদর ১ টাকা ৯০ পয়সা বা ২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ টাকা ৯০ পয়সায়। দিনের মধ্যে শেয়ারটির দর ৭৬ টাকা থেকে ৭৮ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে। দিনশেষে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন হয় ২৯ কোটি ৮১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
তৃতীয় অবস্থানে থাকা আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক সূচকে প্রায় ৫ পয়েন্ট যোগ করেছে। এদিন ব্যাংকটির শেয়ারদর ১ টাকা ৪০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১৫ টাকা ৭০ পয়সায়। লেনদেনের সময় শেয়ারটির দর ১৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১৫ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে ঘোরাফেরা করে। দিনশেষে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৯১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
অন্যান্য বড় কোম্পানির অবদান
এছাড়াও সূচক বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে—
রেনেটা (৩ পয়েন্টের বেশি),
বিএটিবিসি (প্রায় ৩ পয়েন্ট),
সিটি ব্যাংক (২ পয়েন্টের বেশি),
ইস্টার্ন ব্যাংক (প্রায় ২ পয়েন্ট),
গ্রামীণফোন (প্রায় ২ পয়েন্ট),
আইডিএলসি (প্রায় ১ পয়েন্ট) এবং
ইউসিবি (প্রায় ১ পয়েন্ট)।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বড় মূলধনী ও আর্থিক খাতভুক্ত কোম্পানিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ সূচকের এই উত্থানকে শক্ত ভিত দিয়েছে। এটি বাজারে বিনিয়োগকারীদের বাড়তে থাকা আস্থারই প্রতিফলন। তারা মনে করছেন, এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে শেয়ারবাজার আরও সুদৃঢ় অবস্থানে যেতে পারে।
























